রিয়াদের আকাশে হুথিদের ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস, ঝরে পড়া ধাতব খণ্ডে কিন্ডারগার্টেন ও ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত

রিয়াদ, ০৯ অক্টোবর – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আকাশসীমায় সংঘাত এবার আরও ভয়াবহ ও সংকটাপন্ন রূপ ধারণ করেছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী বাহিনীর ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকতেই সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট করে ধ্বংস করে দিয়েছে সৌদি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। তবে আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হলেও, সেটির জ্বলন্ত ও ভারী ধাতব ধ্বংসাবশেষ রিয়াদের জনবহুল এলাকায় খণ্ডবিখণ্ড হয়ে এসে পড়ে। এতে শহরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ভবন ও একটি মেডিকেল ক্লিনিক কমপ্লেক্সের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী (৮ অক্টোবর) এ ঘটনার বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আকাশে ইন্টারসেপ্ট হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিধ্বংসী টুকরো ঝরে পড়ার কারণেই মূলত বেসামরিক ও জরুরি সেবাভিত্তিক এসব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বস্তুগত ক্ষতি সাধিত হয়।
সামরিক তৎপরতা ও আকাশ প্রতিরক্ষার চিত্র
সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলে ইয়েমেনি হুথিরা এই দূরপাল্লার আঘাতটি হানার চেষ্টা করেছিল। তবে ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বস্তের সময় কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে আক্রমণের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে হুথিরা। রিয়াদের এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নিশ্চিত করে—তারা রিয়াদ অভিমুখে ছোঁড়া দুটি এবং ইয়েমেন সীমান্তবর্তী খামিস মুশায়িত এলাকা লক্ষ্য করে আসা আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই আটকে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
কেন রাজকীয় রাজধানী রিয়াদকেই বারবার নিশানা?
এর আগে বুধবারও রিয়াদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র কিং খালিদ বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রক্তক্ষয়ী আক্রমণ চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রকাশ পায়, সে সময় ৩ জন প্রাণ হারান এবং ৩৬ জন গুরুতর আহত হন।
সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের রাজকীয় রাজধানী রিয়াদকে বারবার নিশানা বানানোর পেছনে হুথিদের মূল উদ্দেশ্য হলো—আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত করা, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও অর্থনীতিতে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করা এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা। রিয়াদের আকাশে একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিহত করে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজেদের সক্ষমতা দেখালেও, ঘনঘন এসব আক্রমণের চেষ্টা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এক চরম অনিশ্চয়তার পূর্বাভাস দিচ্ছে।
এনএন/ ০৯ অক্টোবর ২০২৬







