মধ্যপ্রাচ্য

ভারতীয় পাইলটের অসম সাহসিকতায় রক্ষা পেল ইসরায়েলগামী বিমান, নেতানিয়াহুর স্যালুট!

তেলআবিব, ০১ অক্টোবর – সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেলআবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি যাত্রীবাহী বিমানে গতকাল ঘটেছে এক ভয়াবহ ও রোমহর্ষক ছিনতাইয়ের অপচেষ্টা! মাঝআকাশে ককপিটের ভেতরে ভারতীয় মূল পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত গচ্ছাড়কে (মাচ্ছাড়) তাঁরই সহকর্মী হঠাৎ ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেন। কিন্তু শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে গিয়ে এবং নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে ককপিটের লক খুলে দিয়ে নিশ্চিত এক মধ্য-আকাশ বিপর্যয় থেকে বিমান ও দেড় শতাধিক যাত্রীকে রক্ষা করেছেন ভারতীয় এই ক্যাপ্টেন।

রক্তভেজা ককপিট ও ভারতীয় ক্যাপ্টেনের বীরত্ব

সংবাদ সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা গেছে, উড্ডয়নরত অবস্থায় ককপিটে থাকাকালীন সহকর্মী পাইলট হঠাৎ উগ্র রূপ ধারণ করে হামলা চালান। ক্যাপ্টেন স্মিতকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, রক্তে ভেজা শরীরে নিথর হয়ে পড়ে আছেন ক্যাপ্টেন স্মিত এবং প্রচণ্ড রক্তক্ষরণের কারণে তিনি কথা বলতেও পারছিলেন না।

তবে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢলে পড়ার আগেই ক্যাপ্টেন স্মিত তাঁর উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে ককপিটের ডিজিটাল লক সার্ভিস খুলে দিতে সমর্থ হন। ককপিটের দরজা উন্মুক্ত হতেই বিমানে যাত্রী হিসেবে থাকা দুই অফ-ডিউটি পাইলট, ক্রু ও অন্য যাত্রীরা দ্রুত ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন। পরবর্তীতে অফ-ডিউটি দুই পাইলট ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান।

‘সত্যিকারের হিরো’ আখ্যা দিয়ে নেতানিয়াহুর বার্তা

ভারতীয় এই ক্যাপ্টেনের অভূতপূর্ব সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মাইক্রো ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন: “অসাধারণ সাহসিকতার জন্য ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছাড়কে আমার স্যালুট। ছুরিকাঘাতের শিকার ও গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও, তিনি পাল্টা লড়াই করেন, হামলাকারীকে বাধা দেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে করে যাত্রী ও অন্য ক্রুরা ককপিটে প্রবেশ করে হামলাকারী পাইলটকে নিবৃত করতে সমর্থ হন। তিনি ভয়াবহ মধ্য-আকাশের বিপর্যয় ঠেকিয়ে দিয়েছেন।”

নেতানিয়াহু ক্যাপ্টেন স্মিতকে ‘সত্যিকারের হিরো’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। রক্তাক্ত ক্যাপ্টেনকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল রহস্য কী, তা জানতে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও তদন্তকারী সংস্থাসমূহ অনুসন্ধান শুরু করেছে।

এনএন/ ০১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language