কুষ্টিয়া

দৌলতপুর সীমান্তে একজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা ঠেকাল বিজিবি

দৌলতপুর সীমান্ত

কুষ্টিয়া, ২৯ সেপ্টেম্বর- কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবির বাধার মুখে সোমবার রাতে নদীপথে ওই ব্যক্তিকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

সোমবার বিকেলে উপজেলার জামালপুর সীমান্তের জিরো লাইনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে রাতে ওই ব্যক্তিকে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার থেকে আনুমানিক ১২০ গজ ভারতের ভেতরে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের নার্সারিপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে জোর করে বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে জামালপুর বিওপির বিজিবি সদস্যদের জানান।

খবর পেয়ে জামালপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিজিবি সদস্যরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেন। এ সময় বিজিবির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে নদীপথে ভারতের ভেতরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।

এদিকে একই দিন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী আশ্রায়ণ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় আরেকটি ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার থেকে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ গজ ভারতের ভেতরে কয়েকজন ভারতীয় মাদক কারবারি মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফের ১৪৬ ব্যাটালিয়নের নিউ উদয় ক্যাম্পের টহল দলের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এ সময় বিএসএফ সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ করেন এবং কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে মাদক কারবারিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করেও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঘটনার পর সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, “দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে একজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা হয় এবং ওই ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। একই দিন আশ্রায়ণ বিওপি এলাকায় বিএসএফের সঙ্গে ভারতীয় মাদক কারবারিদের মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হলে সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি। সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

এস এম/ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language