জাতীয়

জাতিসংঘের অধিবেশনে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে ‘অনন্য ও মর্যাদাপূর্ণ’ আখ্যা দিল মন্ত্রিসভা

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর – বিশ্বরাজনীতি ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পুরো প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এই ধন্যবাদ ও অভিনন্দন প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সফরের বিস্তারিত কূটনৈতিক সাফল্য তুলে ধরা হয়।

বিশ্ব ইতিহাসে বিরল রেকর্ড: একই পরিবারের ৩ জন রাষ্ট্রপ্রধান!

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক অনন্য রেকর্ড গড়ে উঠল:

  • ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ঐতিহাসিক বক্তব্য দেন।
  • ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর: তার মাতা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে বক্তব্য রেখে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।
  • ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর: এবার ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে সেই ধারা অব্যাহত রাখলেন তাদের সন্তান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একই পরিবারের তিনজন সদস্যের ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিজ দেশের সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিনিধিত্ব করার ঘটনাকে **‘বিশ্ব ইতিহাসে অনন্য ও বিরল’** বলে অভিহিত করেছে মন্ত্রিসভা।

“প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই শক্তিশালী উপস্থিতি বর্তমান সরকারের বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে। এটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার এক নতুন দুয়ার উন্মোচন করল।”— মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ

৪ দিনের ঠাসা সূচি: এক নজরে সফরের বড় সাফল্যসমূহ

নিউইয়র্কে চার দিনের ব্যস্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোট ৩২টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচি ও সভায় অংশ নেন।

সফরের প্রধান অর্জনগুলো:

  • সাধারণ অধিবেশনে প্রধান ভাষণ: ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সামনে বাংলাদেশের নীতি ও অগ্রাধিকার উপস্থাপন।
  • উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন: আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন ৭টি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় বক্তব্য।
  • দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বিশ্বনেতাদের সাথে সম্পর্কের গতি বাড়াতে ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সাথে বৈঠক।
  • আন্তর্জাতিক সংস্থা: জাতিসংঘসহ বিশ্বের ১০টি শীর্ষ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান নির্বাহীদের সাথে কৌশলগত আলোচনা।

নেটপাড়ায় তোলপাড় ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিরল বিশ্ব রেকর্ড ও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সাফল্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ নেটিজেন ও বিশ্লেষকরা একে ‘বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য গৌরবময় মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন। কূটনীতিবিদদের মতে, এ সফরের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বৈশ্বিক চুক্তি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা তৈরি হবে।

এনএন/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language