মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের হামলার হুমকির জবাবে আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানাল ইরান

ট্রাম্পের হামলার হুমকি

তেহরান, ২৮ সেপ্টেম্বর- হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে আবার হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, নতুন করে কোনো আগ্রাসন হলে তার দেশ আমেরিকাকে মহাপ্রলয়ের (ডুমসডে ওয়ার) মুখোমুখি করবে। তবে এত উত্তেজনার মধ্যেও তেহরান কূটনীতির সব পথ বন্ধ করেনি বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি।

হরমুজ প্রণালিতে আবার বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে সম্প্রতি ইরান সাত দিনের একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব ও সময়সূচি দিয়েছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবকে অত্যন্ত কূটকৌশলী ও সুযোগসন্ধানী আখ্যা দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরে ইরান-সংশ্লিষ্ট সমুদ্রপথ ও বন্দরে মার্কিন সামরিক অবরোধ আরও জোরদার ও কার্যকর করার পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে আমেরিকা খুব দ্রুত এই যুদ্ধে বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হবে এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে যাবে।

অন্যদিকে, মার্কিন গণমাধ্যম এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। যেকোনো দিক থেকে মার্কিন হামলা হলে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। তবে তিনি জানান, ইরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ লিখিত জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে এবং সংঘাত এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় বসতেও প্রস্তুত। তেহরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, আমেরিকা তাদের প্রাথমিক শর্তগুলো মেনে কার্যকর পদক্ষেপ শুরু করলে ছয় দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

জাতিসংঘে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি মূলত ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা কোটি কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার একটি কৌশল। ওয়াশিংটনের মতে, তেহরানের আগের চুক্তি লঙ্ঘনের ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে অব্যাহত হামলার কারণে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক আস্থার জায়গাটি আর নেই। এ ছাড়া ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আংশিক যুদ্ধবিরতির সমঝোতাও মার্কিন প্রশাসন গ্রহণ করবে না।

এস এম/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language