মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও ও আন্তর্জাতিক আদালতে ইরানের অভিযোগ

তেহরান,২৮ সেপ্টেম্বর- ইরানের বিমান চলাচল খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের অভিযোগ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির কয়েকটি বিমান সংস্থাকে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে এবং বিমান চলাচল খাত গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে।
ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান আবুজার শিরউদি দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক বক্তব্যে জানান, বিমান চলাচল শিল্পের অধিকার রক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘অবৈধ বিধিনিষেধের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান।
শিরউদি বলেন, “বিমান চলাচল শিল্পের বৈধ অধিকার রক্ষা এবং আমেরিকার আরোপ করা অবৈধ বিধিনিষেধ মোকাবিলায় ইরান আইসিএওতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ প্রস্তুত করে জমা দিয়েছে।”
আইসিএও জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। কানাডার মন্ট্রিয়লে সংস্থাটির সদর দপ্তর। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা, পরিচালনা ও কারিগরি মানদণ্ড নির্ধারণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সমন্বয়ের কাজ করে সংস্থাটি।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও অভিযোগ
শুধু আইসিএওতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এও অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিরউদি।
তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা দ্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছি।”
ইরানের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির বিমান চলাচল খাত ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।
ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর ওপর মার্কিন চাপ
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান চলাচল শিল্পের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোকে সতর্ক করে ওয়াশিংটন জানায়, তারা যদি ইরানের বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা চালিয়ে যায়, তাহলে তাদেরও এর পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব নিষেধাজ্ঞার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির বিমান চলাচল খাতে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে লেনদেন, বিমান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা তৈরি হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
তেহরানের অভিযোগ, বেসামরিক বিমান চলাচলের মতো একটি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম ও নীতিমালা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বিষয়টি তুলেছে ইরান।
নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অন্যতম বিষয় হলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা। পরমাণু কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সামরিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
নতুন বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইসিএও এবং আইসিজেতে অভিযোগ করার মাধ্যমে ইরান এখন বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনি ও কূটনৈতিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।
তবে এসব অভিযোগের পর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কী পদক্ষেপ নেয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র: আল-জাজিরা
এস এম/ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







