দক্ষিণ এশিয়া

পাক-বেলুচ সীমান্তে পুলিশ চৌকিতে টিটিপির রক্তক্ষয়ী হামলা: ১১ জন নিহত, আহত ২০

ইসলামাবাদ, ২৬ সেপ্টেম্বর – পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে এক রক্তক্ষয়ী হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং আরও ২০ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন। ডেরা ইসমাইল খান জেলার দারাজিন্দার কাছে আমান মেলা এলাকার এক যৌথ পুলিশ ও শুল্ক তল্লাশি চৌকিতে এ হামলা চালানো হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।

হামলার সার্বিক চিত্র ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

১. সীমান্ত সংলগ্ন চেকপোস্টে জোড়া আঘাত

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোগল কোট ও দারাজিন্দার কাছে ডেরা ইসমাইল খান-কোয়েটা মহাসড়কের ওপর অবস্থিত আমান মেলা চেকপোস্টে এ বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। স্থানটি খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের সংযোগস্থলে হওয়ায় সেখানে নিয়মিত পুলিশ ও শুল্ক বিভাগের সমন্বিত নিরাপত্তা প্রহরা ছিল। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল (Bomb Disposal Squad) ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট ধরন (আত্মঘাতী নাকি আইইডি) খতিয়ে দেখছে।

২. উদ্ধার অভিযান ও হতাহতের চিত্র

জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’ (Rescue 1122) জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও ঘটনাস্থল থেকে হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ২০ জনের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি ১৮ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

৩. সীমান্ত উত্তেজনা ও টিটিপি সংযোগ

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানে টিটিপির কার্যক্রম ও আক্রমণ তীব্র আকার ধারণ করেছে। যদিও টিটিপি ও আফগান তালেবান পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত, তবে পাকিস্তানের অভিযোগ কিয়েভ ও ইসলামাবাদের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে কাজে লাগিয়ে টিটিপি সদস্যরা আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নিয়মিত পাকিস্তানে হামলা পরিচালনা করছে। তবে কাবুলের তালেবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

নিরাপত্তা সংকট ও আঞ্চলিক অস্থিরতা

পাকিস্তানের দুই অশান্ত প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের হামলা ইসলামাবাদের জন্য নতুন করে মারাত্মক নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করল। সেনা ও পুলিশ বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সমন্বয় সত্ত্বেও সশস্ত্র সংগঠনগুলোর এই ধরনের চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language