প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা বন্ধ করুন, মেধাকে সম্মান দিন: কড়া বার্তা শফিকুর রহমানের

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর – প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও তথাকথিত ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারকে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের একমাত্র মাপকাঠি রাজনৈতিক আনুগত্য নয়, বরং প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত বলে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
ফেসবুক বার্তার মূল বিষয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
১. ‘মেধাকে সম্মান দিন, মেধা ও যোগ্যতাই একমাত্র বিবেচ্য’
সরকারের নীতি ও নিয়োগ পদ্ধতির সমালোচনা করে জামায়াত প্রধান লেখেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে ভুল রাজনীতির খেলা থেকে সরে আসুন। মেধাকে সম্মান দিন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশ রাজনৈতিক আনুগত্যের বিষয় নয়। একজন নাগরিক হিসেবে চাকরিপ্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই হওয়া উচিত একমাত্র বিবেচ্য বিষয়।”
২. ‘ভেরিফিকেশনের নামে ফ্যাসিবাদের অপকর্ম পরিত্যাগ করুন’
চাকরিপ্রার্থীদের পুলিশি বা রাজনৈতিক ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি করার কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “ভেরিফিকেশনের নামে যৌথ চক্রান্ত ও ফ্যাসিবাদী আমলের এই অপকর্ম অবিলম্বে পরিত্যাগ করুন। ফ্যাসিবাদ আমলের অনুরূপ যেকোনো কূটতৎপরতা দেশের জনগণ আর সহ্য করবে না।”
৩. তরুণদের আন্দোলনের ডাক ও চূড়ান্ত প্রতিরোধ
দেশকে মেধাশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে যুবসমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। মেধাবী যুবসমাজসহ তরুণদের নিজেদের অধিকার আদায়ে আবারও সোচ্চার হতে হবে। কোনো ধরনের ছাড় দিলে বাংলাদেশ মেধাহীন ফ্যাসিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। এখানে ছাড় দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।”
শিক্ষাঙ্গন ও রাজনীতির জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে চাকরিপ্রার্থীরা। বিরোধীদলীয় নেতার এই স্পষ্ট অবস্থানের পর প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া ও ভেরিফিকেশন প্রথা বাতিলের দাবি আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







