এশিয়া

মার্কিন এআই মডেলের সক্ষমতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করল চীন

মার্কিন এআই মডেল

বেইজিং,১০ সেপ্টেম্বর- মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল থেকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আহরণ বা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। বেইজিং বলেছে, চীনকে কলঙ্কিত করার এ ধরনের ‘মিথ্যা অভিযোগ’ যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধ করা উচিত।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এ বিষয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরতাই চীনে এআই উন্নয়নের মূল ভিত্তি। পাশাপাশি বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা, যৌথ অবদান এবং পারস্পরিক সুফলের ভিত্তিতে উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।

মাও নিং বলেন, বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে হওয়া উচিত। এর সুফল যেন পুরো মানবজাতি পায়, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অতীতে হওয়া সমঝোতার প্রসঙ্গ তুলে ওয়াশিংটনকে ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং চীনকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার মতে, দুই প্রযুক্তি পরাশক্তির মধ্যে বৈরিতা বাড়ানোর বদলে এআই খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা উচিত।

এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএসএ, এনএসএ ও এফবিআই যৌথভাবে একটি সাইবার নিরাপত্তা পরামর্শপত্র প্রকাশ করে। এতে অভিযোগ করা হয়, চীনভিত্তিক কয়েকটি এআই কোম্পানি শিল্প-পর্যায়ে ‘নলেজ ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা আহরণ করছে।

মার্কিন সাইবার সংস্থার প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে ডিপসিক, মুনশট এআই, আলিবাবা, মিনিম্যাক্স, স্টেপফান ও জেডডটএআই-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের শেষভাগ থেকে সম্ভবত চীনা সরকারের পরোক্ষ সায় বা মদদেই মার্কিন কোম্পানিগুলোর ক্লড, জিপিটি, জেমিনি ও গ্রোক-এর মতো মডেল ব্যবহার করা হয়েছে। এসব মডেলের সঙ্গে লাখ লাখ আলাপচারিতার মাধ্যমে শত শত কোটি ‘টোকেন’, অর্থাৎ এআইয়ের ভাষা ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষুদ্রতম একক, হাতিয়ে নিয়েছে কোম্পানিগুলো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এসব দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে খারিজ করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত এআই শিল্পে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

বিবৃতিতে চীনা মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনা এআই কোম্পানিগুলোকে দমনের পথ বেছে নেয়, তবে বেইজিংও পাল্টা কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

এস এম/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button