যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে এগোচ্ছে চীন

বেইজিং,৯ সেপ্টেম্বর- প্রদর্শনী কিংবা শিল্পকারখানার কাজে সীমাবদ্ধ না রেখে এবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির দিকে এগোচ্ছে চীন। দেশটির সামরিক বাহিনীর মুখপত্র ‘পিএলএ ডেইলি’ সম্প্রতি পরীক্ষাগারে থাকা এই উন্নত প্রযুক্তিকে দ্রুত সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
রয়টার্সের এক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সামরিক ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার নিয়ে চীনের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক গবেষণা চলছে। চীনা সামরিক গবেষকদের তৈরি একটি রূপরেখায় বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে পদাতিক সেনাদের পাশাপাশি হিউম্যানয়েড রোবটও নগর যুদ্ধে অংশ নিতে পারে। বহুতল ভবন শত্রুমুক্ত করা, শত্রুঘাঁটিতে প্রবেশ করে মানচিত্র তৈরি করা এবং বিভিন্ন লক্ষ্য শনাক্ত করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজেও এসব রোবট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংক অব আমেরিকা গ্লোবাল রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে সরবরাহ করা হিউম্যানয়েড রোবটের ৯৫ শতাংশই এসেছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। রোবট উৎপাদনের এই বড় বাজার নিয়ন্ত্রণ চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মিকে (পিএলএ) সামরিক ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক ব্যবহারের জন্য হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির চেষ্টা করছে। তবে দুই ও চার পায়ে চলা রোবট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র চীনের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নৈতিক প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিক ও আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের শত্রুদের কাছ থেকে নির্ভুলভাবে আলাদা করার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নরিনকো ‘ফুক্সি’ (Fuxi) নামে একটি রোবট তৈরি করেছে। রোবটটি দূর থেকে মানুষের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচালনা করা যায়। ফলে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবীয় সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ যুক্ত করার সুযোগ থাকছে।
গবেষকদের ধারণা, প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন এবং উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হলে আগামী পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
এস এম/ ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







