সৌদি আরবের জিজানে আরামকো তেল স্থাপনায় নতুন করে হামলা

রিয়াদ, ৮ সেপ্টেম্বর – সৌদি আরবের জিজান শহরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই হামলায় অবকাঠামোটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ করছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে গত মাসের হামলার ধারাবাহিকতায় জিজানে সৌদি আরামকোর তেল অবকাঠামোতে এটি একটি নতুন আক্রমণ। একটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী সর্বশেষ এই হামলার তীব্রতা আগের হামলার কাছাকাছি ছিল। সৌদি আরামকো কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
তবে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৭ ডলারে পৌঁছায়। ইয়েমেন সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত জিজান শহরটি সৌদি আরবের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও জ্বালানি কেন্দ্র।
এই শহরের আরামকো স্থাপনাটি এর আগেও বিভিন্ন সময় হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সোমবারের এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার করেনি। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।
গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা পরিলক্ষিত হয়েছে। জিজানে অবস্থিত এই শোধনাগারটির প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এই স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
এর আগে সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের জানিয়েছিলেন যে পূর্ববর্তী হামলার কারণে উৎপাদনে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থায় বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। নতুন এই হামলার পর জিজান স্থাপনার কার্যক্রমে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা জানতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
এস এম/ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬







