এশিয়া

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এশিয়ায় বড় আকারে তেল মজুদের তোড়জোড়

এশিয়ায় বড় আকারে তেল মজুদ

টোকিও, ৩ সেপ্টেম্বর – মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতার জেরে এশিয়ার দেশগুলো তাদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় এশীয় অর্থনীতিগুলো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের দেশগুলো আমদানিকৃত তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নিজেদের কাছাকাছি এলাকায় বিশাল জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক পারুল বকশি জানান, বর্তমান সংকট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর একটি হলো ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এড়ানো যায় এমন অবকাঠামো তৈরি এবং অন্যটি হলো আমদানিকৃত জ্বালানির বিকল্প ব্যবস্থা করা।

জাপান ইতোমধ্যেই এই পথে অনেক দূর এগিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে কৌশলগত জ্বালানি মজুদ গড়ে তুলতে সহায়তার জন্য ১০ বিলিয়ন ডলারের পাওয়ার এশিয়া উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে জ্বালানি মজুদের পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের চেয়ে কম থাকায় দেশগুলো নতুন অবকাঠামো নির্মাণে জোর দিচ্ছে।

থাইল্যান্ড সিঙ্গাপুরের বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপদ্বীপে অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন ও বিশাল ট্যাংক ফার্ম তৈরির পরিকল্পনা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতও তাদের কৌশলগত মজুদ সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি দেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন মজুতাগার গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে চীন তাদের আগামী পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পাইপলাইন ও এলএনজি মজুদের কাজ ত্বরান্বিত করছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির সংকীর্ণ জলপথের ওপর অতি নির্ভরতা কমানোই এখন এশীয় দেশগুলোর প্রধান লক্ষ্য।

এস এম/ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button