পশ্চিমবঙ্গ

কলকাতায় হোটেল সংকট: চরম ভোগান্তিতে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিরা

কলকাতা, ২৬ আগস্ট – কলকাতায় চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশিদের আবাসন সংকট এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমাধান হয়নি। বরং দিন দিন সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে। বিশেষ করে নিউমার্কেট সংলগ্ন মারক্যুইস স্ট্রিট এলাকায় হোটেল না পেয়ে অনেক রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘ সময় ফুটপাতে অপেক্ষা করতে দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

মারক্যুইস স্ট্রিটের চিত্র বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিদিন বাংলাদেশ থেকে আসা বাসগুলো থেকে নেমেই যাত্রীরা হোটেলের সন্ধানে ছুটছেন, কিন্তু বেশিরভাগ হোটেল বন্ধ থাকায় তাদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।

ঢাকার বাসিন্দা মো. পাভেল জানান, বেঙ্গালুরু থেকে অপারেশন শেষে গত বুধবার কলকাতায় এসে তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পাঁচটি হোটেল ঘোরার পর অবশেষে একটি থাকার জায়গা পেলেও দীর্ঘ সময় তাকে অসুস্থ রোগী নিয়ে রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

অন্য এক পর্যটক শামীম জানান, বেশ কিছু হোটেল ঘোরার পর তিনি থাকার জায়গা পেয়েছেন। তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, মারক্যুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকার প্রায় ৫১টি হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শিখা ইন নামক একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কড়াকড়ি শুরু হয়।

স্থানীয় ট্রাভেল ব্যবসায়ী সাকিল আহমেদ জানান, এখানকার ব্যবসা ৯৫ শতাংশ বাংলাদেশিদের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্তে পর্যটকদের হয়রানি বাড়ছে যা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এদিকে মুকুন্দপুর এলাকায় চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানেও অনেক হোটেলকে নোটিশ দেওয়া হলেও কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করেই অতিথি রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দূর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা সচল রাখা জরুরি। অন্যথায় বাস চলাচল ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাগজপত্র পরীক্ষার জন্য নোটিশ দেওয়া হলেও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট সমাধান মেলেনি।

এনএন/ ২৬ আগস্ট ২০২৬

Back to top button