সম্পাদকের পাতা

বিরাট মছিবতে ডলি বেগম

রাজনীতিতে কখনও কখনও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেখানে কথা বললেও প্রশ্ন ওঠে, আবার চুপ থাকলেও প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় রাজনীতিক ডলি বেগম এখন অনেকটা সেই অবস্থায়। যে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন তাঁকে তিনবার কুইন্স পার্কে পাঠিয়েছে, সেই আসনেই আগামী ৩ সেপ্টেম্বর প্রাদেশিক উপনির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর পুরোনো দল এনডিপি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয়ের লিবারেল শিবির এবং কমিউনিটির একটি অংশের প্রত্যাশা যেন এসে মিলেছে তাঁর দরজায়। ফলে ডলি নিজে প্রার্থী না হয়েও তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নির্বাচনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক কৌতূহল: তিনি শেষ পর্যন্ত কার পাশে দাঁড়াবেন, কিংবা আদৌ কারও পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়াবেন কি না।

এই রাজনৈতিক কৌতূহলের পেছনে রয়েছে ডলি বেগমের সাম্প্রতিক নাটকীয় রাজনৈতিক যাত্রা। তাঁর কুইন্স পার্ক ছেড়ে যাওয়ার কারণেই স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের আসনটি শূন্য হয়। Ontario NDP-র ডেপুটি লিডার ও তিনবারের এমপিপি ডলি গত ফেব্রুয়ারিতে দল ও প্রাদেশিক আসন ছেড়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন Liberal Party of Canada-তে যোগ দেন। এরপর ১৩ এপ্রিলের ফেডারেল উপনির্বাচনে একই এলাকা থেকে তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন।

এখন সেই ডলিকে নিয়েই আবার সরগরম প্রাদেশিক রাজনীতি। সম্প্রতি Toronto Star-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়, ৩ সেপ্টেম্বরের উপনির্বাচনে তিনি কোন পক্ষকে সহযোগিতা করবেন। ডলি কোনো প্রার্থীর নাম বলেননি। শুধু বলেছেন, “আমি একজন দৃঢ় লিবারেল সদস্য।” একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘদিন এই এলাকার প্রাদেশিক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন এবং এলাকার মানুষ যাঁকে নির্বাচিত করবেন, তাঁর সঙ্গে কাজ করতে চান। Star-এর প্রতিবেদনটিও তাঁকে ‘জনপ্রিয় সাবেক NDP MPP’ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং উপনির্বাচনে তাঁর প্রভাবকে গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেছে।

ডলির অবস্থানটি কেন এত তাৎপর্যপূর্ণ, তার উত্তর তাঁর রাজনৈতিক অতীতেই রয়েছে। ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৫ সালে তিনি তিনবার Scarborough Southwest থেকে NDP-র এমপিপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবার তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসন ধরে রাখতে NDP প্রার্থী করেছে ফাতিমা শাবানকে। Ontario NDP নেতা মেরিট স্টাইলসও চান, তাঁর সাবেক ককাস সহকর্মী এই প্রাদেশিক লড়াই থেকে দূরে থেকে ফেডারেল রাজনীতিতেই মনোযোগ দিন। ফাতিমাকে প্রার্থী করার সময় NDP-ও জোর দিয়ে বলেছে, ২০১৮ সাল থেকে তারা এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।

অন্যদিকে Ontario Liberal Party-র প্রত্যাশা ঠিক উল্টো। তারা চাইছে ডলি তাদের প্রার্থী আহসানুল হাফিজের পক্ষে প্রচারে অংশ নিন। ডলি ফেডারেল উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই Ontario Liberals-এর পক্ষ থেকে সেই প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছিল। কারণ ২০১৮ সালে ডলি NDP-র হয়ে আসনটি দখল করার আগে দীর্ঘ সময় Scarborough Southwest লিবারেলদের হাতে ছিল। এখন দলটি আসনটি ফিরে পেতে চাইছে।

এখানে একটি মৌলিক বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। ডলি বেগম Liberal Party of Canada-র এমপি, আর আহসানুল হাফিজ Ontario Liberal Party-র প্রার্থী। দুটি দলের নামের সঙ্গে ‘Liberal’ থাকলেও তারা একই সাংগঠনিক কাঠামোর অংশ নয়। Ontario Liberal Party-র নিজস্ব সংবিধান, প্রার্থী মনোনয়নের নিয়ম, Executive Council এবং Provincial Liberal Association রয়েছে। অন্যদিকে Liberal Party of Canada-র নিজস্ব সংবিধান, National Board এবং ফেডারেল সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে। ফলে ডলি ফেডারেল লিবারেল এমপি হয়েছেন বলেই Ontario Liberal Party-র কোনো নির্বাচনী সিদ্ধান্ত বা প্রচারণায় অংশ নেওয়া তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্ব হয়ে যায় না।

একজন ফেডারেল এমপির ক্ষেত্রে আরও একটি সীমারেখা আছে। House of Commons-এর Members’ Allowances and Services Manual স্পষ্টভাবে বলছে, ফেডারেল, প্রাদেশিক বা পৌর নির্বাচনে কোনো দল বা প্রার্থীকে সমর্থন বা বিরোধিতা করার কার্যক্রম এমপির ‘parliamentary function’ নয়। এ ধরনের নির্বাচনী কাজে House of Commons থেকে পাওয়া অর্থ, অফিস, কর্মী, সরঞ্জাম বা অন্যান্য সংসদীয় সম্পদ ব্যবহার করা যায় না। এমনকি constituency office-ও নির্বাচনী সংগঠনের স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। অর্থাৎ ডলি ব্যক্তি ও রাজনীতিক হিসেবে হাফিজের পক্ষে যেতে পারেন, কিন্তু ‘ফেডারেল এমপি ডলি বেগম’-এর সরকারি অবকাঠামো নিয়ে Ontario Liberal প্রার্থীর প্রচারণায় নেমে পড়তে পারেন না।

একজন সরকারদলীয় এমপির বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ককাস, দলীয় কৌশল এবং নেতৃত্বের বৃহত্তর অবস্থানও সাধারণত বিবেচনায় থাকে। বিশেষ করে ডলি এখন House of Commons-এর Justice and Human Rights এবং Industry and Technology, দুটি স্থায়ী কমিটির সদস্য। তাঁর বর্তমান রাজনৈতিক দায়িত্ব আর কয়েক মাস আগের একজন প্রাদেশিক বিরোধীদলীয় এমপিপির দায়িত্ব এক নয়।

Beaches–East York-এর ফেডারেল উপনির্বাচনের দিকে তাকালে এই পার্থক্য আরও পরিষ্কার হয়। সেখানে Liberal Party of Canada-র প্রার্থী তানভীর শাহনাওয়াজ। ১৮ জুলাই তাঁর মনোনয়ন সভায় ডলি বেগম উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকেও সম্প্রতি তানভীরের সমর্থনে Beaches–East York-এ দেখা গেছে। এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। তানভীর কার্নি ও ডলি দুজনেরই নিজস্ব ফেডারেল দলের প্রার্থী। ৩১ আগস্টের সেই নির্বাচন ফেডারেল নির্বাচন। আর আহসানুল হাফিজের নির্বাচনটি Ontario Legislature-এর জন্য এবং তাঁর দল Ontario Liberal Party।

একটি মহলে অবশ্য প্রশ্ন উঠছে, ডলি বেগম তানভীর শাহনাওয়াজের প্রচারণায় সক্রিয় হলে আহসানুল হাফিজের জন্য একইভাবে মাঠে নামছেন না কেন। প্রশ্নটি স্বাভাবিক। তবে এখন পর্যন্ত Ontario Liberal Party-র ভেতরে কিংবা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে কোনো নেতিবাচক বিতর্ক দেখা যায়নি। বরং সাম্প্রতিক Toronto Star প্রতিবেদনের মূল আলোচনাই ছিল ডলি বেগমের রাজনৈতিক প্রভাব এবং তাঁর সমর্থন কোন দিকে গেলে Scarborough Southwest-এর নির্বাচনী অঙ্ক কতটা বদলে যেতে পারে।

এদিকে Ontario Premier ডাগ ফোর্ডও ডলি বেগমের রাজনৈতিক সক্ষমতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখেছেন। ডলি প্রাদেশিক রাজনীতি ছেড়ে ফেডারেল নির্বাচনে যাওয়ার সময় ফোর্ড তাঁর সাফল্য কামনা করে বলেছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি একজন ভালো ফেডারেল এমপি হবেন। পরে ডলিকে নিয়ে তিনি আরও বলেন, “তিনি খুব ভালো। ডলির সঙ্গে আমার সবসময়ই ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি খুবই ভালো মানুষ।” একই সঙ্গে ফোর্ড মনে করেন, এবার ডলি ব্যালটে না থাকায় Progressive Conservatives Scarborough Southwest-এ জয়ের সুযোগ পেতে পারে। অর্থাৎ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবেও ফোর্ড একদিকে ডলির ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার প্রশংসা করেছেন, অন্যদিকে তাঁর অনুপস্থিতিকে নিজের দলের নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। ফোর্ড ফেব্রুয়ারিতেও প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ডলি নির্বাচিত হলে ফেডারেল এমপি হিসেবে ভালো কাজ করবেন।

ডলির ব্যক্তিগত রাজনৈতিক শক্তির সবচেয়ে বড় প্রমাণ অবশ্য কোনো প্রশংসাবাক্য নয়, ভোটের ফল। ২০২৫ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে Scarborough Southwest-এ তিনি পেয়েছিলেন ১৪ হাজার ৫৫৭ ভোট, ৪২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। Progressive Conservatives পেয়েছিল ১০ হাজার ৪০০ এবং Liberals ৭ হাজার ৭৮৬ ভোট। মোট বৈধ ভোট ছিল ৩৩ হাজার ৯৩৭। এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ফেডারেল উপনির্বাচনে দল পাল্টে দাঁড়িয়েও ডলি ২০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। কাজেই তাঁকে শুধু একটি দল বা একটি কমিউনিটির ভোটে তৈরি রাজনীতিক হিসেবে দেখলে হবে না।

এখানে বাংলাদেশি ভোটের অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন আছে। Statistics Canada-র ২০২১ সালের Census profile অনুযায়ী, Scarborough Southwest-এ বাংলাভাষী জনসংখ্যার হার প্রায় ৮ শতাংশ। তবে এই সংখ্যাকে সরাসরি ‘বাংলাদেশি ভোটার’ হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আদমশুমারির এই তথ্য মূলত ভাষার ভিত্তিতে তৈরি, জাতীয়তা বা জন্মভূমির ভিত্তিতে নয়। এই বাংলাভাষীদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের পাশাপাশি ভারতীয় বাঙালিও রয়েছেন। আবার এই ৮ শতাংশের মধ্যে শিশু-কিশোর এবং ভোট দেওয়ার বয়স হয়নি এমন মানুষও আছেন। ফলে Scarborough Southwest-এ ঠিক কতজন বাংলাদেশি ভোটার রয়েছেন, তার কোনো সরকারি সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায় না। এর সঙ্গে আরেকটি বড় বিষয় হলো ভোটার উপস্থিতি। নিবন্ধিত বা যোগ্য ভোটারের সবাই যে ভোট দিতে কেন্দ্রে আসবেন, এমন নয়; তাই প্রকৃত নির্বাচনী অঙ্ক নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কত শতাংশ ভোটার ভোট দিতে আসেন, তার ওপরও।

তবু নির্বাচনী অঙ্কটি বোঝাতে একটি সরল উদাহরণ দেওয়া যায়। ২০২৫ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে Scarborough Southwest-এ মোট বৈধ ভোট পড়েছিল ৩৩ হাজার ৯৩৭টি। যদি কেবল হিসাবের সুবিধার জন্য ধরে নেওয়া হয় যে, ভোট দিতে আসা মানুষের মধ্যেও বাংলাভাষীদের অনুপাত মোটামুটি ৮ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, তাহলে তাদের ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৭১৫। এই ভোট আহসানুল হাফিজ ও ডা. নূর তরুণের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হলে প্রত্যেকের ভাগে পড়বে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ ভোট। এটি কোনো জরিপ বা পূর্বাভাস নয়, নিছক একটি গাণিতিক দৃশ্যপট। কিন্তু এই অঙ্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা সামনে আনে। বাংলাদেশি বা বাংলাভাষী ভোট দুই প্রার্থীর মধ্যে ভাগ হয়ে গেলে নির্বাচনের মূল লড়াই শেষ পর্যন্ত হবে বাকি প্রায় ৩১ হাজার ভোটকে ঘিরে।

ভোটার উপস্থিতির বিষয়টিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। গত এপ্রিলে একই নামের ফেডারেল আসনের উপনির্বাচনে তালিকাভুক্ত ৮৫ হাজার ৭৯৬ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছিলেন ২৮ হাজার ৯৯৮ জন, অর্থাৎ প্রায় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অবশ্য ফেডারেল ও প্রাদেশিক নির্বাচনের সীমানা ও ভোটারের তালিকা পুরোপুরি এক ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তারপরও সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের অভিজ্ঞতা বলে, সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় কম ভোটার উপস্থিতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর ভোটার উপস্থিতি কম হলে সংগঠিত কয়েকশ কিংবা এক হাজারের বেশি ভোটও নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণেই আহসানুল হাফিজের জন্য দলের ভেতরের ঐক্যের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। মে মাসে Ontario Liberal nomination contest-এ তিনি সাবেক ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন-স্মিথকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হারিয়েছিলেন। চূড়ান্ত রাউন্ডে হাফিজ পান ৭১৮ ভোট, এরস্কিন-স্মিথ ৬৯৯। ব্যবধান মাত্র ১৯ ভোট। ফলাফলের পর এরস্কিন-স্মিথ প্রশাসনিক ত্রুটি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে আপিল করেন। তবে Ontario Liberal Party-র Arbitration Committee বিস্তারিত শুনানির পর আপিল খারিজ করে দেয়। কমিটি জানায়, ফল পাল্টে দেওয়ার মতো কোনো অনিয়ম হয়নি, দলের নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে এবং হাফিজই প্রকৃত বিজয়ী।

আইনগত ও সাংগঠনিকভাবে সেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কিন্তু রাজনীতির ক্ষত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে সব সময় সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে যায় না। এরস্কিন-স্মিথের সমর্থক, দীর্ঘদিনের স্থানীয় Liberal সদস্য কিংবা তাঁর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের সবাই হাফিজের পক্ষে একই উৎসাহে মাঠে নামবেন কি না, সেটি এখনও রাজনৈতিক প্রশ্ন। এই অবস্থায় আবার ডলিকে কেন্দ্র করে ‘তিনি হাফিজের পক্ষে কেন নামছেন না’ বিতর্ক তৈরি হলে Ontario Liberals নিজেদেরই নতুন একটি বিভাজনের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। কত ভোট এতে কমবে, তা এখন বলা অসম্ভব। কিন্তু স্বল্প ভোটার উপস্থিতির নির্বাচনে অপ্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ বিতর্ক কোনো প্রার্থীর জন্যই ভালো খবর নয়।

একই বাস্তবতা Progressive Conservative প্রার্থী ডা. নূর তরুণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তিনি স্থানীয় PC সদস্যদের সমর্থনে প্রার্থী হয়েছেন এবং দলের ভাষ্য অনুযায়ী দুই দশকের বেশি সময় Scarborough-তে বসবাস করছেন। কিন্তু দলীয় nomination meeting-এ সংগঠিত সদস্যদের ভোট পাওয়া আর সাধারণ নির্বাচনে হাজার হাজার মানুষের ভোট পাওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে পরিচিতি তাঁকে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু Queen’s Park-এ যেতে হলে তাঁকেও বৃহত্তর Scarborough Southwest-এর বহুজাতিক, বহু ভাষাভাষী ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে।

আসলে হাফিজ ও তরুণ দুজনের জন্যই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এখানেই। কানাডার নাগরিক হওয়া আইনগত পরিচয়; কিন্তু একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সফল হওয়ার জন্য শুধু পাসপোর্ট বা কত বছর এ দেশে বসবাস করেছেন, সেটিই শেষ কথা নয়। এলাকার ইতিহাস, সামাজিক কাঠামো, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমস্যা, বহুসাংস্কৃতিক সমাজের সংবেদনশীলতা এবং বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। Scarborough Southwest আসনে শেষ পর্যন্ত ভোটাররা দেখবেন, কে তাঁদের কথা বোঝেন এবং কে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

এই সমীকরণে NDP-কে বাদ দেওয়ারও উপায় নেই। ২০২৫ সালে ডলি বেগম NDP প্রার্থী হিসেবে ১৪ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এবার প্রশ্ন হলো, সেই ভোটের কতটা ছিল NDP-র স্থায়ী ভোট এবং কতটা ছিল ডলির ব্যক্তিগত ভোট। ফাতিমা শাবান যদি পুরোনো NDP ভিত্তির বড় অংশ ধরে রাখতে পারেন এবং একই সঙ্গে হাফিজ ও তরুণ নিজেদের পরিচিত কমিউনিটির ভোট ভাগ করে নেন, তাহলে নির্বাচন অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। আবার ডলির সাবেক সমর্থকদের একটি অংশ যদি Ontario Liberal বা PC-র দিকে চলে যায়, সমীকরণ বদলে যাবে। এখানেই ডলির নীরব সমর্থন, প্রকাশ্য সমর্থন কিংবা নিরপেক্ষ থাকা, তিনটিরই রাজনৈতিক মূল্য আছে।

ডলি বেগমের ‘মছিবত’ সম্ভবত এখানেই। তাঁর পুরোনো দল এনডিপি চায় তিনি এই প্রাদেশিক লড়াই থেকে দূরে থাকুন। Ontario Liberal Party চায় তিনি আহসানুল হাফিজের পাশে দাঁড়ান। স্থানীয় একটি মহল আবার ডলির অবস্থানকে বিচার করছে মূলত একটি প্রশ্নে: তিনি লিবারেল এমপি হয়েও কেন আহসানুল হাফিজের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলছেন না, তাঁর প্রচারণায় নামছেন না কিংবা সরাসরি সমর্থন ঘোষণা করছেন না। এত আলোচনা ও হিসাব-নিকাশের মূল কারণ একটাই, ডলি বেগমকে এমন একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাঁর সমর্থন একটি নির্বাচনের হিসাব বদলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র:
Elections Canada, Elections Ontario, Statistics Canada, House of Commons of Canada, Ontario Liberal Party, Liberal Party of Canada, Toronto Star


Back to top button