এশিয়া

জাপানের সামরিক তৎপরতা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

পিয়ং ইয়াং, ৫ আগস্ট – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী শান্তির পথ থেকে সরে এসে জাপান সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি ও নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি জোরদার করায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে জাপানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিকায়নের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জাপান পুনরায় একটি যুদ্ধবাজ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছে।

জাপান সম্প্রতি তাদের সরকারি মূল্যায়নে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়াকে সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে সামরিক শক্তি বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

কিম ইয়ো জং বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের মদদে জাপানের দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং যৌথ মহড়ায় অংশগ্রহণ এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, টোকিও যদি আগাম আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের নীতিতে এগোয় এবং পিয়ংইয়ংয়ের জন্য হুমকি তৈরি করে, তবে উত্তর কোরিয়া মোটেও নীরব দর্শক হয়ে থাকবে না।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে, গত সপ্তাহে তারা প্রথমবারের মতো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মসমর্পণের আগে সমগ্র কোরীয় উপদ্বীপ জাপানের শাসনাধীন ছিল। সেই তিক্ত ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া জাপানের বর্তমান সামরিক তৎপরতাকে আগ্রাসী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে।

জাপান ২০২৫ সালের জন্য তাদের সামরিক বাজেট ৯ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬ হাজার ২২০ কোটি ডলারে উন্নীত করেছে, যা দেশটির জিডিপির ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ১৯৫৮ সালের পর এটিই জাপানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা বাজেট। জাপানের এই পদক্ষেপ নিয়ে শুধু উত্তর কোরিয়াই নয়, বরং তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের কঠোর অবস্থান বেইজিং ও টোকিওর সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।

এদিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় ২০১৯ সালের পর থেকে পিয়ংইয়ং বারবার নিজেদের চূড়ান্ত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করে আসছে।

এনএন/ ৫ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language