মধ্যপ্রাচ্য

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মালয়েশিয়া উপকূলে ইরানের তেল বাণিজ্য অব্যাহত

তেহরান, ৩০ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার উপকূলবর্তী সমুদ্রাঞ্চল ব্যবহার করে ইরানের অপরিশোধিত তেল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এই জ্বালানি গোপনে চীনে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আউটার পোর্ট লিমিটস (ইওপিএল) এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সম্প্রতি হিউম্যানিটি নামের একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার মালাক্কা ও সিঙ্গাপুর প্রণালী অতিক্রম করে মালয়েশিয়ার উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।

দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছানোর পর জাহাজটি তার স্বয়ংক্রিয় পরিচিতি ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তখন জাহাজটি অন্য একটি অপেক্ষমাণ জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মার্কিন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই চীন ক্রয় করে থাকে।

বছরের পর বছর ধরে মালয়েশিয়ার এই অঞ্চলটি ইরান, রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা দেশগুলোর তেল কেনাবেচার একটি অলিখিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ প্রকল্প সিলাইটের পরিচালক রে পাওয়েল জানান, চলতি বছরের শুরু থেকে অন্তত ৬২টি জাহাজ ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এই অঞ্চলে তাদের অবস্থান গোপন করেছে।

চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত বড় কোম্পানিগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ভয়ে সরাসরি যুক্ত না হলেও দেশটির ছোট ছোট রিফাইনারিগুলো ছাড়মূল্যে এই তেল কিনতে আগ্রহী।

তবে মালয়েশিয়া সম্প্রতি তাদের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন সংশোধন করে অনুমতি ছাড়া জাহাজ নোঙর ও পণ্য স্থানান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নিয়ন্ত্রিত সুইফট নেটওয়ার্কের বাইরে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেনের মাধ্যমে এই বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে।

এস এম/ ৩০ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language