ইরানকে অর্থনৈতিক যুদ্ধে সহায়তাকারীরা শত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে: মোহসেন রেজাই

তেহরান, ২৪ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেওয়া তথাকথিত অর্থনৈতিক যুদ্ধে যেসব দেশ অংশ নেবে, তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে গণ্য করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই।
তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বার্থে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে সহায়তা করে, তবে তাদের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে যা ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ হতে পারে।
বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো যদি এই যুদ্ধে যোগ দেয়, তবে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথ ব্যবহার করেও এক ফোঁটা জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে এই পথে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন এমন একটি কৌশল গ্রহণ করছে যেখানে সম্ভাব্য হামলা হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন হামলা ঠেকানোর চেষ্টা থাকছে, তেমনি পাল্টা আঘাতের জন্য উচ্চমূল্য চুকানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ওয়াশিংটন চায় তেহরানের তেল বিক্রির পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং এক্ষেত্রে চীনের সহযোগিতা চাইছে তারা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও স্বীকার করেছেন যে, তার দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো বর্তমানে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলো একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, অন্যদিকে ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক কারণে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের জন্য জরুরি।
ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন মাবনের মতে, এই দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতা চায় না। উল্লেখ্য যে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
এস এম/ ২৪ আগস্ট ২০২৬









