মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি: বন্ধ হতে পারে তেল রপ্তানি

তেহরান, ২৪ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরান কঠোর পাল্টা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, যদি এই অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকে তবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেবে না তারা।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সোমবার থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক অভিযান শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের সাথে যারা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বেসেন্ট এই পদক্ষেপকে অর্থনৈতিক ডি ডে হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হলে হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়েও তেল রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপে কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তাকে যুদ্ধের শামিল বলে বিবেচনা করবে তেহরান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়।

ইরানের এই হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের মতো সংকটে রয়েছে।

নতুন এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশটির অবকাঠামো এবং বাণিজ্য কার্যক্রম আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে উত্তেজনা প্রশমনে কাতার, পাকিস্তান ও তুরস্ক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরান সফর করবেন বলে জানা গেছে।

এস এম/ ২৪ আগস্ট ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language