উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসা তিন বছরের জন্য স্থগিতের প্রস্তাব

ওয়াশিংটন, ২৭ জুলাই – যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থগিত করার প্রস্তাব আনা হয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি এই সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে উত্থাপন করেছেন। বিলটি পাস হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, গ্রিন কার্ড এবং পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার আশঙ্কা রয়েছে।

বিলের প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী তিন বছর নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। এই সময়ে পুরো কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর শর্তারোপ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিলের সমর্থকদের দাবি, অনেক প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। মূলত এই কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধ করে আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তাবিত আইনে প্রতিটি এইচ-১বি আবেদনের জন্য এক লাখ ডলার ফি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বর্তমানের লটারি পদ্ধতি বাতিল করে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ এবং এইচ-১বি ভিসাধারীদের গ্রিন কার্ডের আবেদন সুবিধা সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগও বন্ধ হতে পারে।

শুধু কর্মী নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপিটি কর্মসূচি বাতিল এবং নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি প্রত্যাহারের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে এই বিলে। এছাড়া সরকারি সংস্থাগুলোতে অ-অভিবাসী ভিসাধারীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এই পরিবর্তনগুলো কার্যকর করতে বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হয়। পাশাপাশি উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে। ভারত, বাংলাদেশ ও চীনসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীরা এই সুবিধা ব্যবহার করে থাকেন।

এনএন/ ২৭ জুলাই ২০২৬


Back to top button