দক্ষিণ এশিয়া

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই অনশন ভাঙলাম: সোনম ওয়াংচুক

দিল্লি, ২৫ জুলাই – শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়াই কেন দীর্ঘ ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেন, সেই বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও প্রখ্যাত বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, তার কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ছিল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ বা হয়রানি বন্ধ করা।

শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিটি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যেতে চাননি। সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২৮ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছিলেন ৫৯ বয়সী এই বিজ্ঞানী।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত, শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি এই অনশন ভাঙেন।

এর আগে কেন্দ্রীয় সরকার তাকে লিখিতভাবে জানায় যে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দায়ের করা হবে না। এছাড়া পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও প্রশ্নফাঁসের মতো সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, তাদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তবে অনশন প্রত্যাহারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে পড়েন সোনম ওয়াংচুক।

অনেকেই অভিযোগ তোলেন যে, প্রধান দাবি পূরণ না হতেই তিনি আন্দোলন থেকে সরে এসেছেন। এর জবাবে ওয়াংচুক বলেন, কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করা তার একার দায়িত্ব নয়। তার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়া ঠেকানো।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আলোচনার সময় মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি উত্থাপন করা হলে সরকার আরও সময় চেয়েছে। ওয়াংচুকের বিশ্বাস, সাধারণ জনগণের চাপ অব্যাহত থাকলে সরকার ভবিষ্যতে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

সরকারের সঙ্গে কোনো গোপন সমঝোতার অভিযোগও তিনি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সমঝোতা করলে তাকে দীর্ঘ ২৬ দিন অভুক্ত থাকতে হতো না। আন্দোলন ও প্রতিবাদের দাবিগুলো ভবিষ্যতে আরও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এম/ ২৫ জুলাই ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language