
কানাডার দাবানলের ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ঢেকে দেওয়ার পর বিষয়টি আর শুধু পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সংকটে সীমাবদ্ধ থাকেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে কানাডার ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, বন ও ঝোপঝাড় যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় কানাডা থেকে ‘নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে। এই দূষণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে যে ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তা কানাডার পণ্যের ওপর বর্তমানে আরোপিত শুল্কের সঙ্গে যোগ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে কত হারে কিংবা কোন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি। বিষয়টি নিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে সেই আলোচনা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ট্রাম্পের হুমকির বাস্তবায়ন নিয়েও আইনি প্রশ্ন রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টের একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের সুযোগ সীমিত করেছেন। ফলে দাবানলের ধোঁয়াকে কারণ দেখিয়ে নতুন শুল্ক আরোপ করতে চাইলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিকল্প আইনি পথ খুঁজতে হতে পারে।
এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার সকালে বায়ুমানের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত প্রধান শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওর দাবানল থেকে আসা ঘন ধোঁয়া শহর ও আশপাশের অঞ্চল ঢেকে রাখায় তিন দিন পর টরন্টো আবার এই অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থানে ফিরে আসে।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের হিসাবে শনিবার সকালে টরন্টোর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI ছিল প্রায় ১৮৬, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ের। একই সময়ে নিউইয়র্কের সূচক ছিল ১৮০ এবং ওয়াশিংটনের ১৭৩।
রাত ১২টার পর থেকেই টরন্টোর কেন্দ্রস্থলের বায়ুমান আবার দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে। কানাডার এয়ার কোয়ালিটি হেলথ ইনডেক্স বা AQHI রাত দুইটার দিকে ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’র পর্যায়ে পৌঁছে যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সূচকটি ১৪ পর্যন্ত ওঠে। সরকারি হিসাবে ১০-এর বেশি যেকোনো মাত্রাই ‘অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
শনিবার সকাল আটটায় টরন্টোর AQHI ছিল ১০-এর বেশি। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন কানাডা দিনের সর্বোচ্চ ঝুঁকিও একই পর্যায়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল। দিনের পরের ভাগে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা থাকলেও রাতের দিকে আবার বায়ুমান খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়। তবে রোববার পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়ে সূচক নিম্ন ঝুঁকির পর্যায়ে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ হৃদ্রোগ ও ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক মানুষ এবং শিশুদের বাইরে পরিশ্রমসাধ্য কাজ এড়িয়ে চলতে বলেছে। সাধারণ মানুষকেও কাশি, গলা জ্বালা বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাইরের কার্যক্রম কমিয়ে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র:
Environment and Climate Change Canada (July 18, 2026)
IQAir (July 18, 2026)
The Globe and Mail (July 18, 2026)









