হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের, তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

তেহরান, ১৫ জুলাই – হরমুজ প্রণালির পর এবার লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিকেও কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে ইয়েমেনের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের অভ্যন্তরে এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করছে, তখন এর পাল্টা জবাব হিসেবে সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে তেহরান।
পারস্য উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরকেও সংঘাতের আওতায় এনে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ওয়াশিংটনের ওপর কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে চাইছে ইরান। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা এ জলপথ দিয়ে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ তেল রপ্তানি এবং বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে।
ইয়েমেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। হুতি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ অভিযোগ করেছেন, ইয়েমেনে সামরিক অভিযান চালাতে সৌদি আরবকে উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
পরিস্থিতির অবনতি হলে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব উভয় প্রণালিতেই সমন্বিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষক ফাওয়াজ গেরগেস মনে করেন, ওয়াশিংটনকে চাপে ফেলতে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সামুদ্রিক পথকেই একই সময়ে ঝুঁকির মুখে ফেলার সক্ষমতা রাখে। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতিই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেনিস রসের মতে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে কিংস কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ মনে করেন, বাব আল-মান্দেব নিয়ে হুতিদের হুমকি ইরানের একটি চূড়ান্ত কৌশলের অংশ হতে পারে।
যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ায়, তবে তেহরান হুতিদের ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার চেষ্টা করতে পারে। অন্যদিকে গালফ রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ সাগের মনে করেন, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ পুরো অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হুতিরা তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।
এস এম/ ১৫ জুলাই ২০২৬









