রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রবণতা বৃদ্ধি

ঢাকা, ১২ জুলাই – বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর ও নেত্রকোনার মতো জেলাগুলোতে পাসপোর্ট করতে গিয়ে রোহিঙ্গাদের হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনা এই পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
সৌদি আরবের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অন্তত ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। তবে বেসরকারি হিসেবে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। সংঘবদ্ধ দালাল চক্র, স্থানীয় অসাধু জনপ্রতিনিধি এবং তথ্যের সঠিক যাচাই বাছাইয়ের অভাবে রোহিঙ্গারা সহজেই ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে।
এই অসাধু কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে। গত বছরের ১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের সময় আজিজ খান নামে এক রোহিঙ্গা যুবক ধরা পড়েন।
২০১৮ সালে বাংলাদেশে আসা এই যুবক দালালের মাধ্যমে ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একইভাবে চাঁদপুরে দুই নারী এবং নেত্রকোনায় মো. করিম নামে এক রোহিঙ্গা ধরা পড়েছেন। নেত্রকোনায় আটক ব্যক্তির কাছে সৌদি আরবের ড্রাইভিং লাইসেন্সও পাওয়া গেছে।
ভাষাগত পার্থক্যের কারণে তাকে শনাক্ত করা সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। দালালরা প্রতিটি পাসপোর্টের বিনিময়ে ৩০ হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কর্মচারীরা যথাযথ যাচাই ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ই পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর সরাসরি জালিয়াতি কঠিন হলেও প্রাথমিক কাগজপত্রের দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে এই চক্রটি। পুলিশি তদন্তে এই কাজের সাথে যুক্ত একটি বিশাল সিন্ডিকেটের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই সিন্ডিকেটে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি দালালদের পাশাপাশি কিছু অসাধু সদস্যের নামও উঠে এসেছে।
তারা কয়েকটি ধাপে টেকনাফ বা কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন ঠিকানায় ভুয়া এনআইডি তৈরি করে দেয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাসপোর্ট জালিয়াতি রোধে শুধু অফিস পর্যায়ে কড়াকড়ি যথেষ্ট নয়।
ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড পর্যায়ে জন্ম নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০ বছরের পারিবারিক রেকর্ড যাচাই বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। একইসাথে জন্ম নিবন্ধন ও এনআইডি ডেটাবেজের সঙ্গে রোহিঙ্গা ডেটাবেজের স্বয়ংক্রিয় সংযোগ স্থাপন করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
এস এম/ ১২ জুলাই ২০২৬









