জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ লাখ টন তেল কিনছে সরকার

ঢাকা, ৪ জুলাই – মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আরও প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মূলত ৯০ দিনের মজুত সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, আমদানিকৃত এই জ্বালানির মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল বা উড়োজাহাজের জ্বালানি রয়েছে। সিঙ্গাপুরের অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড এই জ্বালানি সরবরাহ করবে।
এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জ্বালানি ক্রয় করছে। সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে,
সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর দেশের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে জ্বালানি তেল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। আগামী জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের সম্ভাব্য চাহিদার কথা বিবেচনা করে বিপিসি এই প্রস্তাবটি পেশ করেছিল। কমিটির অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে প্রশাসনিক ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব এওয়ার্ড বা নোয়া ইস্যু করা হয়েছে।
চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর দ্রুতই এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে আসা শুরু হবে। বিপিসির কর্মকর্তারা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়েছে।
এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও নিরবচ্ছিন্ন শিল্পোৎপাদন, কৃষিকাজ এবং আকাশপথে যোগাযোগ সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এক সাহসী ও দূরদর্শী উদ্যোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ দিনের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, যা নতুন আমদানির ফলে ৯০ দিনে উন্নীত হবে।
আর্থিক বিষয়ে জানানো হয়েছে,
সোনালী ব্যাংকের বিনিময় হার অনুযায়ী এই আমদানিতে সম্ভাব্য ব্যয় হবে প্রায় ৬২ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের পরিবর্তন ঘটলে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
এই ব্যয়ের সংস্থান বিপিসির নিজস্ব তহবিল এবং প্রয়োজনে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে করা হবে। বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই এবং ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
এস এম/ ৪ জুলাই ২০২৬









