ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজের সম্পর্কে বড় ফাটল

রিয়াদ, ৩ জুলাই – ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একসময় ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগের পক্ষে থাকলেও বর্তমানে তেহরানের শক্তিমত্তা বিবেচনায় নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেছেন সৌদি যুবরাজ।
মার্কিন প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান এখন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের চেয়ে নিজ দেশের নিরাপত্তাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর ফলে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দীর্ঘদিনের মিত্রতায় নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পেন্টাগন পরিচালিত প্রজেক্ট ফ্রিডম নামক একটি সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইলে রিয়াদ তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। সৌদি আরবের সঙ্গে আগাম আলোচনা না করেই এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যুবরাজ আশঙ্কা করছেন, এমন পদক্ষেপ নতুন করে যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জ্যারেড কুশনারের মতো শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় ফোনালাপ করা হলেও সৌদি যুবরাজ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। ফলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করতে বাধ্য হয় ট্রাম্প প্রশাসন।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে সৌদি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলার ঘটনায় ট্রাম্পের নিষ্ক্রিয়তা এবং বর্তমান সময়ে তাঁর ঘনঘন অবস্থান পরিবর্তনের ফলে ওয়াশিংটনের প্রতি রিয়াদের গভীর অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব এখন যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে।
ফলে নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষায় চীন ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক জোরদার করছে তারা। বিশেষ করে চীনের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর এখন সরাসরি তেহরানের সাথে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে রিয়াদ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্র ক্রয়ের মতো কিছু চুক্তি সচল রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ব্যক্তিগত সম্পর্কের তিক্ততা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি মিয়ামিতে এক অনুষ্ঠানে সৌদি যুবরাজকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর মধ্যপ্রাচ্য সফরে সৌদি আরব এড়িয়ে গেছেন। সব মিলিয়ে ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ট্রাম্প এবং মোহাম্মদ বিন সালমানের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে একটি কঠিন পরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
এস এম/ ৩ জুলাই ২০২৬









