জাতীয়

ঢাবিতে ৫ স্থাপনার নাম পরিবর্তন নিয়ে জটিলতা, সিনেট অধিবেশন বর্জন ডাকসু প্রতিনিধিদের

ঢাকা, ৩০ জুন – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিনেটে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অধিবেশন বর্জন করেছেন ডাকসুর পাঁচ সদস্য।

সোমবার রাতে উপাচার্য যখন প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানান, তখন ছাত্র প্রতিনিধিরা ওয়াকআউট করেন।

অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করা ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না। তারা কক্ষ ত্যাগ করার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম তাদের বর্জন না করার আহ্বান জানালেও ছাত্র প্রতিনিধিরা তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এর আগে অধিবেশনে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে উত্থাপন করা হলে সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিনেট সদস্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর পক্ষে মত দেন।

অন্যদিকে অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা নাম পরিবর্তনের সরাসরি বিরোধিতা করেন। তবে অপর সদস্য ফজলুল হক মিলন শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে নামকরণের প্রস্তাব দেন। সব মিলিয়ে আলোচনা শেষে উপাচার্য বিষয়টি ফের সিন্ডিকেটে পাঠানোর নির্দেশ দিলে ছাত্র প্রতিনিধিরা ক্ষুব্ধ হয়ে অধিবেশন ত্যাগ করেন।

ডাকসু প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমান নামগুলোর কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হলের ব্যানার নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এছাড়া হলের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য কোনো স্পনসর পাওয়া যাচ্ছে না বলেও তারা অভিযোগ করেন।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম উল্লেখ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে শেখ পরিবারের নামে থাকা কয়েকশ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করেছে। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপনাগুলোর ক্ষেত্রেও বীরশ্রেষ্ঠ বা বরেণ্য ব্যক্তিদের নাম বিবেচনা করা উচিত।

উল্লেখ্য যে, গত ৮ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ পরিবারের নামে থাকা স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সিনেটে তোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এই তালিকার মধ্যে রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, শেখ রাসেল টাওয়ার, বঙ্গবন্ধু টাওয়ার এবং শহীদ অ্যাথলেট সুলতানা কামাল হোস্টেল।

এনএন/ ৩০ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language