জাতীয়

দুই ধাপে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার

ঢাকা, ২৯ জুন – সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিভিন্ন ধরনের ভাতা কার্যকর করার বিষয়টি ২০২৭-২৮ অর্থবছর পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে বড় অংকের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় সেই হার কিছুটা কমানো হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বর্ধিত অর্থ হাতে পেতে কিছুটা সময় লাগবে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আদেশ জারি, গেজেট প্রকাশ এবং কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বকেয়াসহ বর্ধিত বেতনের অর্থ একযোগে পরিশোধ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

মূলত মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ ১১ বছর পর এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে বাস্তবায়ন কৌশলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সংশোধিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন এবং পরবর্তী ধাপে ভাতাগুলো কার্যকর করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ এই বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এছাড়া জনপ্রশাসন খাতেও অতিরিক্ত থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হবে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। এছাড়া বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য যাতায়াত ভাতা চালুর প্রস্তাবও ছিল প্রতিবেদনে। তবে সচিব কমিটি কমিশনের কিছু সুপারিশে পরিবর্তন এনে ব্যয় সংকোচনের পক্ষে মত দিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু অতিরিক্ত সুবিধা ও ভাতার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এনএন/ ২৯ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language