থমকে থাকা তিস্তা ও ফারাক্কা নিয়ে বড় সুখবর! অনুমোদন পেল বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা ব্যারেজ

ঢাকা, ১৩ আগস্ট – অবশেষে গতি ফিরছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায়। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদী রক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি পানিবণ্টন চুক্তি ও মেগা প্রকল্পগুলোর জট ছাড়াতে শুরু করেছে। বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা, ভারত-বাংলাদেশের ফারাক্কা চুক্তি নবায়ন এবং ঐতিহাসিক পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নে মিলল বড় ধরনের অগ্রগতি।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব যুগান্তকারী তথ্য ও সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
বৈঠকের প্রধান প্রধান মাইলফলক ও সিদ্ধান্ত:
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলকে মরুময়তার হাত থেকে বাঁচাতে কাঙ্ক্ষিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ একনেক (ECNEC) সভায় চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার তথ্য কমিটিকে অবহিত করা হয়।
২০২৭-এই শুরু হচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা: উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত বহুল প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’-র মূল কাজ আগামী বছর (২০২৭) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে ইতিবাচক অগ্রগতি: ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে জোরালো ও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার খবর জানানো হয়েছে।
নদীভাঙন রোধ ও বৃক্ষরোপণ: বর্ষার আগেই নদীভাঙন রোধে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ এবং নদী রক্ষা বাঁধগুলোতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালুর মতো সময়োপযোগী পদক্ষেপে সরকারের বিগত ৬ মাসের কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়।
বৈঠকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক বরাদ্দের একটি চিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
তথ্যমতে, বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৯৩টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে এসব উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য মোট ৭ হাজার ৮৩২ দশমিক ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে এসব মেগা প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা, বরাদ্দের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে কর্মকর্তাদের জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের তাগিদ দেওয়া হয়।
কমিটির প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে পানিসম্পদ খাতের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন আজাদ (প্রতিমন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়), কমিটির সদস্যবৃন্দ: এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন, এ. ই. সুলতান মাহমুদ বাবু, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ্ ফরিদ, মুন্সী রফিকুল আলম, মো. ইজ্জত উল্লাহ্, মো. মশিউর রহমান খান এবং মো. অলি উল্লাহ্।
এ ছাড়া পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, আওতাধীন সংস্থাগুলোর প্রধান, বিভিন্ন দপ্তরের মহাপরিচালক এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন।
এনএন/ ১৩ আগস্ট ২০২৬









