ডিএমপির মানবিক উদ্যোগ: বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন রাজধানীর ১ হাজার ১২১ পরিবহন শ্রমিক

ঢাকা, ২১ জুন – ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজপথে দায়িত্ব পালন করা গণপরিবহনের চালক ও তাদের সহকারীরা প্রায়শই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে থাকেন। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে তারা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও দৃষ্টিশক্তির সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভোগেন।
কিন্তু কাজের ব্যস্ততা ও আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের পক্ষেই নিয়মিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব হয় না। পরিবহন শ্রমিকদের এই স্বাস্থ্যগত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে পাক্ষিক হেলথ ক্যাম্প চালু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সহযোগিতায় পরিচালিত এই ক্যাম্পগুলোতে চালক ও শ্রমিকরা বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং ব্যবস্থাপত্র পাচ্ছেন। গত ১৬ মে মহাখালী বাস টার্মিনালে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১২১ জন পরিবহন শ্রমিক এই সেবা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে উত্তরা বিভাগে ৯১ জন, গুলশানে ১২৪ জন, মিরপুরে ২৪২ জন, তেজগাঁওয়ে ১৫০ জন, রমনায় ৬০ জন, লালবাগে ১৪৭ জন, ওয়ারীতে ২২৫ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৮২ জন শ্রমিক চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
রাজধানীর গাবতলী, মিরপুর ১০ গোলচত্বর, টেকনিক্যাল ক্রসিং, ঢাকেশ্বরী, ফুলবাড়িয়া, রামপুরা, কামারপাড়া, কাকরাইল এবং বলধা গার্ডেনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পুলিশ বক্স সংলগ্ন এলাকায় এই ক্যাম্পগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্যাম্পে আসা চালকরা রক্তচাপ ও শর্করার পরীক্ষা ছাড়াও চোখের প্রাথমিক পরীক্ষার সুবিধা পাচ্ছেন।
সেবা গ্রহণকারী বাসচালক দীন ইসলাম ও সহকারী উসমান গণি জানান, তারা আগে জানতেন না তাদের মধ্যে কোনো শারীরিক জটিলতা রয়েছে কি না। পুলিশের এই উদ্যোগে বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা ও পরামর্শ পেয়ে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় একভাবে বসে গাড়ি চালানোর কারণে চালকদের মধ্যে মেরুদণ্ডের সমস্যা ও কোমর ব্যথা বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ধূমপায়ী চালকদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডার সমস্যা প্রকট। ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডা. মোহাম্মদ আমুদ্দিন জানান, চোখের সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে, তাই চালকদের নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানান, চালকরা সুস্থ থাকলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটা কমে আসে। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু হওয়া এই মানবিক কার্যক্রমে চিকিৎসকরা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। বর্তমানে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে চললেও ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পেলে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
এস এম/ ২১ জুন ২০২৬









