পাকিস্তানে স্যানিটারি পণ্যের ওপর থেকে ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত

ইসলামাবাদ, ১৭ জুন – রক্ষণশীল পাকিস্তানে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য এবং পিরিয়ড নিয়ে আলোচনা দীর্ঘকাল ধরে একটি সামাজিক ট্যাবুর মতো বিবেচিত হয়ে আসছে। জনপরিসরে এই বিষয়ে কথা বলাকে অনেক ক্ষেত্রে লজ্জাজনক বা অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।
অধিকার কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে এই অচলায়তন ভাঙার চেষ্টা করলেও সফল হওয়া ছিল কঠিন। তবে দুইজন তরুণ আইনজীবীর সাহসী পদক্ষেপের ফলে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। তথাকথিত পিরিয়ড ট্যাক্স নামে পরিচিত স্যানিটারি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।
ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের মাত্র ১২ শতাংশ নারী বাণিজ্যিক স্যানিটারি পণ্য ব্যবহার করেন। অধিকাংশ নারী স্যানিটারি পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে অস্বাস্থ্যকর পুরনো কাপড় বা ঘরোয়া সামগ্রী ব্যবহারে বাধ্য হন যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
২৯ বছর বয়সী আহসান জাহাঙ্গীর খান এবং ২৫ বছর বয়সী মাহনুর ওমর গত বছরের অক্টোবর মাসে এই করের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তারা দাবি করেন যে স্যানিটারি পণ্যকে বিলাস পণ্যের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।
তাদের মতে এই অতিরিক্ত কর আরোপের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকার নারীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার অধিকারকে অবহেলা করছে যা সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। শুরুতে সরকার এই করকে বৈষম্যমূলক নয় বলে দাবি করলেও সম্প্রতি জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ১৮ শতাংশ বিক্রয় কর প্রত্যাহারের কথা জানান।
তিনি স্বীকার করেন যে নারীদের স্বাস্থ্য ও মর্যাদা রক্ষার জন্য এই পণ্যগুলো অপরিহার্য। তবে আইনজীবীরা শুধু বিক্রয় কর নয় বরং স্যানিটারি প্যাড তৈরির কাঁচামালের ওপর থাকা আমদানি শুল্কসহ যাবতীয় কর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
দেশটির প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন যাদের জন্য স্যানিটারি প্যাড কেনা এখনো আয়ের বড় একটি অংশ ব্যয়ের সমান। আইনজীবীরা এই আইনি লড়াই চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এস এম/ ১৭ জুন ২০২৬









