ভারতে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির প্রসারে সরকারের জোর এবং বাড়ছে গ্রাহক অসন্তোষ

নয়া দিল্লি, ১৭ জুন – ভারতে গাড়ির জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই কেন্দ্রীয় পরিবহনমন্ত্রী নীতিন গডকরি এবার ই১০০ বা সম্পূর্ণ ইথানল জ্বালানির অনুমোদন দিয়েছেন। এর আগে তিনি ১৫ শতাংশ পেট্রোল ও ৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ই৮৫ জ্বালানির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
তবে ভারতে তেলের উচ্চমূল্য এবং গ্রাহকদের ওপর ইথানলযুক্ত পেট্রোল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত ৫ জুন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী দিল্লিতে ই৮৫ ফুয়েল স্টেশনের উদ্বোধন করলেও বর্তমানে এই জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী গাড়ির সংখ্যা দেশটিতে নগণ্য।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে শক্তি উৎপাদনের দিক থেকে ইথানল পেট্রোলের সমকক্ষ নয় তবে এটি সাশ্রয়ী। বর্তমানে ভারতে সাধারণত ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত ই২০ পেট্রোল সরবরাহ করা হয়। সরকার এই জ্বালানিতে কর ছাড়ের সুবিধা দেওয়ায় এর দাম তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ ইথানল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাচ্ছে এবং ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৩ সালের আগে নির্মিত যানবাহনগুলো মূলত নন ইথানল পেট্রোলের জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল।
পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. কুমারান জানান উচ্চ মাত্রার ইথানল পুরোনো ইঞ্জিনের গ্যাসকেট এবং ফুয়েল পাইপের ক্ষতি করতে পারে। বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা বলেন ইথানল একটি পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি হওয়ায় এটি দূষণ কমায় এবং ইঞ্জিনের সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে মাইলেজের সমস্যা সমাধান সম্ভব।
ভারত সরকার ২০২৬ সাল নাগাদ বিমানেও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। আখের ফলন বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের স্বার্থরক্ষা এবং আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোকেই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ব্রাজিলের মতো দেশগুলো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যে পরিবর্তন এনেছে ভারত তা মাত্র কয়েক বছরে করতে চাওয়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরণের অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এস এম/ ১৭ জুন ২০২৬









