জেনেভায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি সই হবে শুক্রবার, আয়োজক পাকিস্তান

ইসলামাবাদ, ১৫ জুন – ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সই অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাকিস্তান এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের আয়োজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও মধ্যস্থতার পর এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার মধ্যরাতে চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে শেহবাজ শরিফ জানান, আগামী শুক্রবার জেনেভায় এই চুক্তি সই হবে। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিল। এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই আলোচনা তখন চূড়ান্ত রূপ না পেলেও পরবর্তী সময়ে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়।
প্রধানমন্ত্রী তার এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছিলেন যে, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ব্যাপারে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। জাতীয় সংসদে শেহবাজ শরিফ এই অর্জনকে শান্তির পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, তিন মাস ১৬ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। এই সাফল্যের জন্য তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। শান্তি প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক ভূমিকার জন্য তিনি কাতারের আমির, সৌদি যুবরাজ, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এবং চীনের প্রেসিডেন্টের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
শেহবাজ শরিফ দাবি করেন, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে যে সম্মান অর্জন করেছে, তা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
এনএন/ ১৫ জুন ২০২৬









