২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে ‘গণবিরোধী ও লুটপাটের’ আখ্যা দিয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ

ঢাকা, ১২ জুন – ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে গণবিরোধী ও লুটপাটের বাজেট আখ্যা দিয়ে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পরপরই রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগর এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন যে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রথম বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।
এটি মূলত পুরোনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় তৈরি একটি গণবিরোধী বাজেট। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রস্তাবিত বাজেটের বড় অংশই ঋণ ও করনির্ভর এবং এর মাধ্যমে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ড. আযাদ আরও দাবি করেন যে উন্নয়নের নামে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ তৈরির জন্যই বাজেটের আকার বড় করা হয়েছে। তার মতে বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালন ব্যয়ে চলে যাবে যা জনগণের জন্য সরাসরি কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না।
দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করলে এক লাখ কোটি টাকা কম ব্যয়েও জনগণের অধিকতর কল্যাণ নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে পরোক্ষ কর বৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম বাড়বে এবং দরিদ্র মানুষ আরও সংকটে পড়বে।
এছাড়া বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাত থেকে বড় অংকের ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনার ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন যে এই বাজেট কেবল সরকারঘনিষ্ঠ সুবিধাভোগীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবকে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে অভিহিত করেন। সমাবেশে ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।
এস এম/ ১২ জুন ২০২৬









