মধ্যপ্রাচ্য

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ১২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ল ইরান! এফ-৩৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি

আম্মান, ১১ জুন – মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবার সব সীমা ছাড়িয়ে এক পূর্ণাঙ্গ ও প্রলয়ংকরী মহাযুদ্ধের রূপ নিল! বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আত্মঘাতী ড্রোন হামলার কয়েক ঘণ্টার মাথায় এবার জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকার অন্যতম প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক মিসাইল (Ballistic Missile) ছুড়েছে ইরান।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জর্ডানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘আল-আজরাক বিমানঘাঁটি’ (Al-Azraq Air Base) লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালায় ইরানের এলিট ফোর্স ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (IRGC)।

আমেরিকা তাদের সামরিক অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিলেও ইরান কিন্তু হামলা থামায়নি। প্রথমে বাহরাইন ও কুয়েতে টানা দুইবার হামলা চালানোর পর, এবার জর্ডানকে রণক্ষেত্রে পরিণত করল তেহরান।

আইআরজিসি (IRGC) তাদের এক বিশেষ সামরিক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করে রীতিমতো বিস্ফোরক দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ (F-35), এফ-১৫ (F-15) এবং এফ-১৬ (F-16) ফাইটার জেটগুলোকে টার্গেট করে মোট ১২টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়েছে।

ইরানের দাবি, তাদের প্রতিটি মিসাইল নিখুঁতভাবে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে, যার ফলে আমেরিকার একাধিক কোটি ডলার মূল্যের যুদ্ধবিমান দুমড়েমুচড়ে গেছে এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসি স্পষ্ট ভাষায় বিশ্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে—”যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতাপূর্ণ আচরণ বন্ধ না করবে, তেহরান ঠিক ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে সরাসরি জবাব দিয়ে যাবে।”

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের এই নজিরবিহীন মিসাইল হামলার পর তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশটিতে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (US State Department) জর্ডানে অবস্থানরত তাদের সব নাগরিক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ বা জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি জরুরি পোস্টে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে—”জর্ডানের আকাশসীমায় ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। যে যেখানেই থাকুন না কেন, এক মূহূর্ত সময় নষ্ট না করে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে বা বাঙ্কারে চলে যান।”

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত কিন্তু গত সোমবারের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই দিন হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে ওয়াশিংটন দাবি করে, এটি ইরানই ভূপাতিত করেছে। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনারা ইরানের ৭টি উপকূলীয় পয়েন্টে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সেনাবাহিনী তাদের সেই অভিযান শেষ করার ঘোষণা দিলেও ইরান কিন্তু পাল্টা প্রতিশোধ নেওয়া বন্ধ করেনি। প্রথমে বাহরাইন, তারপর কুয়েত এবং সর্বশেষ জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে এক চরম বার্তা দিল তেহরান।

এনএন/ ১১ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language