পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ধর্মঘট ও সংঘর্ষে নিহত ১১, জনপদ জুড়ে স্থবিরতা

ইসলামাবাদ, ১০ জুন – নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি নাগরিক জোটের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদ বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। ধর্মঘটের আগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।
রাজধানী মুজাফফারাবাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তাঘাট বর্তমানে প্রায় জনশূন্য অবস্থায় রয়েছে। দিনের অধিকাংশ সময় কেবল পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহল যান চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে রাওয়ালাকোট শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় ব্যাপক অভিযান ও ধরপাকড় শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
আঞ্চলিক সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির চারজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ধরিয়ে দিতে এক কোটি পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সংগঠনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য কাশ্মীর আইনসভা নির্বাচনে শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের বিরোধিতা করে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়।
মূলত যারা কাশ্মীরে বসবাস না করে পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলে থাকেন, তাদের এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রতিবাদে এই আন্দোলন।
মুজাফফারাবাদের স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ আমিন জানান, প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের এই শহর বর্তমানে পুরোপুরি প্রাণহীন হয়ে পড়েছে এবং সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ এবং নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনা মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতির লক্ষণ।
তবে পাকিস্তান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কাশ্মীর প্রশাসন এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এর আগেও এই অঞ্চলে আটা ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন অবসানের পর থেকেই হিমালয় অঞ্চলের এই ভূখণ্ডটি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছে।
এনএন/ ১০ জুন ২০২৬









