ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ইস্যুতে ট্রাম্পের ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব পাস

ওয়াশিংটন, ৪ জুন – ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ ইস্যুতে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপ সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর ট্রাম্প তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এই ভোটাভুটি প্রক্রিয়াকে অর্থহীন আখ্যা দিয়ে ভোট দেওয়া আইনপ্রণেতাদের তিনি দেশপ্রেমহীন বলে কটাক্ষ করেছেন। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে এই প্রস্তাবটি পাস হয়। এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি দাবি করেন যে ডেমোক্র্যাট এবং চারজন রিপাবলিকান সদস্য মিলে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার ক্ষমতা খর্ব করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের মতে যখন তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের চূড়ান্ত আলোচনা চালাচ্ছেন ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশবিরোধী কাজ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পবিদ্বেষী সিন্ড্রোমে ভুগছেন এবং তারা জাতীয় স্বার্থের চেয়ে তার রাজনৈতিক ব্যর্থতাকে বড় করে দেখছেন। ২১৫ বনাম ২০৮ ভোটে পাস হওয়া এই প্রস্তাব অনুযায়ী ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে ট্রাম্পকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে হবে অথবা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।
এটি একটি যৌথ রেজ্যুলেশন হওয়ায় যদি এটি রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটেও পাস হয় তবে এতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের প্রয়োজন পড়বে না। তবে হোয়াইট হাউস এই পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা খর্ব করার একটি ব্যর্থ চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে। প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে প্রতিনিধি পরিষদের এটি চতুর্থ প্রচেষ্টা।
এর আগে গত মে মাসে সিনেটেও একই ধরনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছিল। এই ভোট হোয়াইট হাউসের ওপর যুদ্ধ বন্ধের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
একই সঙ্গে এই ভোটাভুটি ট্রাম্পের নিজস্ব রাজনৈতিক দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও সামনে নিয়ে এসেছে। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা চার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার একজন টম ব্যারেট জানান যে একমাত্র কংগ্রেসেরই যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে এবং তারা সেটি রক্ষা করতে চান। তিনি আরও বলেন যে তিনি তার বিবেক অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন এবং এর যেকোনো পরিণতি মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন।
এস এম/ ৪ জুন ২০২৬









