জাতীয়

ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকট আড়ালে ঋণ পুনঃতফসিলের কৌশল নিচ্ছে সিপিডি

ঢাকা, ৪ জুন – দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার হ্রাস পেলেও তা প্রকৃত উন্নতি নয় বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন ও রাইট-অফের মতো কৃত্রিম ব্যবস্থার মাধ্যমে খাতের প্রকৃত সংকট আড়াল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, অর্থনীতির কিছু সূচকে সাম্প্রতিক সময়ে স্বস্তির আভাস পাওয়া গেলেও কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো এখনো বিদ্যমান। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৫.৭ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের মার্চে ৩২.২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এই হ্রাসকে সম্পদের গুণগত মানের উন্নয়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরং বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক কৌশলে ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ভঙ্গুর চিত্র ঢাকা দেওয়া হয়েছে। আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতগুলো বর্তমানে বহুমুখী চাপের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি ও সরকারি অর্থায়নের সংকট উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সিপিডির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে স্থবিরতা দেখা দিচ্ছে। ২০২৬ সালের মার্চে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্যের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫ শতাংশে। ব্যাংকগুলোর হাতে অর্থ থাকলেও ঋণ বিতরণে সতর্কতা অবলম্বন করায় বেসরকারি খাতের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না।

এছাড়া ১৭টি ব্যাংকের সম্পদমান পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি। সিপিডি এই সংকট নিরসনে কঠোর ঋণ শ্রেণিকরণ নীতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে সিপিডি জানায়, চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই থেকে এপ্রিল সময়ে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

২০২৬ সালের এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে যা মজুরি বৃদ্ধির হারের চেয়েও বেশি। জ্বালানি ও পরিবহন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এস এম/ ৪ জুন ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language