ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠক, মেলেনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত

ওয়াশিংটন, ৩০ মে – প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত থাকলেও শান্তিচুক্তির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। গত এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই মাসের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিলেন।
বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা চললেও কোনো চূড়ান্ত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে শান্তিচুক্তির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছেন।
প্রথমত ইরানকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত অনুযায়ী তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে। তবে ইরান এখন পর্যন্ত এই শর্তগুলোতে রাজি না হওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত থমকে আছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে অবশ্যই সম্মত হতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি শুল্কমুক্ত যাতায়াতের জন্য অবিলম্বে উন্মুক্ত করতে হবে।
তিনি আরও দাবি করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে মাটি খুঁড়ে ইরানের পারমাণবিক সরঞ্জাম উদ্ধার করবে। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরান ও ওমানের হাতে থাকা উচিত। মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ উন্মুক্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান নিয়ন্ত্রণ শিথিল করলে যুক্তরাষ্ট্রও ধাপে ধাপে অবরোধ তুলে নেবে। এদিকে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বৈঠক করলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিলেও বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কেন কোনো সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস থেকে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন যে বর্তমানে চলমান আলোচনা সীমিত পরিসরে হচ্ছে এবং এতে পারমাণবিক ইস্যুটি অন্তর্ভুক্ত নেই।
এস এম/ ৩০ মে ২০২৬









