কোরবানির নিয়তে কেনা পশু কোরবানি না করলে কি গুনাহ হবে?

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে অনেকেই হাটে গিয়ে বেশ দেখেশুনে কোরবানির পশু কেনেন। কিন্তু কোনো কারণে যদি সেই পশুটি কোরবানি না করে পালার জন্য রেখে দিতে বা বিক্রি করে দিতে মন চায়, তবে কি ইসলামি শরিয়তে তা জায়েজ হবে? নাকি কোরবানি না করলে গুনাহ বা পাপ হবে?
এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম মাসআলা। ব্যক্তি ধনী নাকি দরিদ্র এবং পশুটি কেনার সময় তার মনের নিয়ত কেমন ছিল—তার ওপর ভিত্তি করে ফিকহ শাস্ত্রের বিধানটি নিচে সহজ ভাষায় বিশদভাবে আলোচনা করা হলো।
১. সামর্থ্যবান বা ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান (যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব)
যে ব্যক্তির ওপর অলরেডি কোরবানি ওয়াজিব (অর্থাৎ যিনি সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা সমমূল্যের সম্পদের মালিক), তিনি যদি কোরবানির নিয়তে কোনো পশু কেনেন এবং পরে সেটি কোরবানি না করে পালার জন্য রেখে দিতে বা বিক্রি করতে চান, তবে তা তার জন্য জায়েজ বা বৈধ। এতে কোনো গুনাহ হবে না।
তবে এক্ষেত্রে ২টি কড়া শর্ত মানতে হবে:
বিকল্প পশু আবশ্যক: ওই নির্দিষ্ট পশুটি কোরবানি না করলেও, তার পরিবর্তে তার সমমানের বা তার চেয়েও উত্তম/দামি অন্য কোনো পশু তাকে অবশ্যই কোরবানি করতে হবে।
মূল্যের হিসাব: যদি দ্বিতীয় যে পশুটি কেনা হলো, তার দাম প্রথম পশুর চেয়ে কম হয়, তবে যত টাকা কম—তত টাকা গরিব-দুঃখীকে সদকা বা দান করে দিতে হবে। (যেমন: ১ লাখ টাকায় কেনা গরু বিক্রি করে যদি কেউ ৮০ হাজার টাকার গরু কোরবানি দেন, তবে বাকি ২০ হাজার টাকা দান করে দেওয়া ওয়াজিব)।
২. অসচ্ছল বা দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান (যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়)
যাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব ছিল না (নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই), তিনি যদি সওয়াবের আশায় কোরবানির নিয়তে হাট থেকে কোনো পশু কেনেন, তবে কেনার সাথে সাথেই ওই নির্দিষ্ট পশুটি কোরবানি করা তাঁর ওপর ওয়াজিব বা জরুরি হয়ে যায়।
রেখে দেওয়া বা বিক্রি নিষিদ্ধ: দরিদ্র ব্যক্তি কোরবানির নিয়তে পশু কিনে ফেললে তা পালার জন্য রেখে দেওয়া বা বিক্রি করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়।
সময় পার হয়ে গেলে করণীয়: কোনো কারণে যদি কোরবানির নির্ধারিত দিনগুলো (জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ) পার হয়ে যায় এবং পশুটি কোরবানি করা না হয়, তবে ওই জ্যান্ত পশুটিই আল্লাহর ওয়াস্তে দান বা সদকা করে দেওয়া আবশ্যক।
৩ আগে থেকে ঘরে থাকা বা সাধারণ নিয়তে কেনা পশুর ক্ষেত্রে বিধান
যদি বিষয়টি এমন হয় যে, আপনার নিজের খামার বা বাড়িতে আগে থেকেই একটি পশু লালন-পালন করা হচ্ছিল এবং কোরবানির ঈদের আগে আপনি মনে মনে নিয়ত করলেন যে “এ বছর এটি কোরবানি দেব”। অথবা হাট থেকে কোনো পশু কেনার সময় কোরবানির কোনো নিয়ত ছিল না, সাধারণ উদ্দেশ্যে কেনার পর বাড়িতে এনে কোরবানির নিয়ত করেছেন।
💡 মূল ফতোয়া: এই ক্ষেত্রে আপনি ধনী হোন কিংবা দরিদ্র—ওই নির্দিষ্ট পশুটিই কোরবানি করা আপনার জন্য জরুরি বা বাধ্যতামূলক নয়। আপনি চাইলে শেষ মুহূর্তে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ওই পশুর পরিবর্তে অন্য কোনো পশু কোরবানি করতে পারেন, অথবা চাইলে ওই পশুটি বিক্রি করে দিতে পারেন। এতে শরিয়তের কোনো বাধা নেই।
সহজ কথায়, কোরবানি ওয়াজিব হলে পশু পরিবর্তন করা যায় কিন্তু কোরবানি করতেই হবে। আর কোরবানি ওয়াজিব না হয়েও যদি নির্দিষ্টভাবে কোরবানির উদ্দেশ্যে কেনা হয়, তবে সেই পশুই জবাই করতে হবে, অন্যথায় তা দান করে দিতে হবে।
এনএন/ ২৭ মে ২০২৬









