হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন-যুদ্ধবিমান ও জাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য; ১৫ কোটি ডলারের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস!

লন্ডন, ১৩ মে – বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালিতে এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামছে যুক্তরাজ্য। লোহিত সাগর থেকে পারস্য উপসাগর—পুরো এলাকায় উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই জলপথের একচ্ছত্র নিরাপত্তা নিশ্চিতে অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম মোতায়েনের ঘোষণা দিল ব্রিটিশ সরকার। মঙ্গলবার ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (MoD) জানিয়েছে, ইরান-ইসরায়েলের ছায়া যুদ্ধের মাঝে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এই ‘মেগা মিশন’।
বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, এই মিশনের জন্য ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী (Royal Navy) তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলো মাঠে নামাচ্ছে:
১. এইচএমএস ড্রাগন (HMS Dragon): এই শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজটি ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা দিয়েছে। এতে রয়েছে উন্নত ‘সি ভাইপার’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা যেকোনো মিসাইল হামলা রুখে দিতে সক্ষম।
২. টাইফুন যুদ্ধবিমান: আকাশে টহল দেবে ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর গর্ব ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’। এগুলো কৌশলগতভাবে আকাশপথের ওপর নজরদারি চালাবে।
৩. বিহাইভ ও ক্রাকেন ড্রোন: এবারের আকর্ষন হলো ‘মডুলার বিহাইভ সিস্টেম’, যা স্বয়ংক্রিয় ‘ক্রাকেন ড্রোন বোট’ দিয়ে সজ্জিত। এগুলো পানির নিচে বা ওপরে থাকা যেকোনো হামলাকারী ড্রোন বা মাইনকে শনাক্ত করে ধ্বংস করে দেবে।
কেন এত তোড়জোড়? (আর্থিক ও কৌশলগত দিক)
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিবাহিত হয়। এই রুট বন্ধ হওয়া মানে বিশ্ব অর্থনীতি স্থবির হয়ে যাওয়া। এই একক মিশনের জন্য যুক্তরাজ্য নতুন করে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার (১১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড) বরাদ্দ দিয়েছে। এই অভিযানে কেবল ব্রিটেন একা নয়, ৪০টির বেশি দেশ অংশ নেবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই জোটে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা নেবে লন্ডন।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হেইলে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য নেতৃত্বমূলক ভূমিকা পালন করছে। ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন আমাদের শক্তিশালী প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।”
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাজ্যের এক হাজারের বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি সামান্য অবনতি হলেই এই পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান বা ‘অপারেশন’ সক্রিয় করা হবে। এর লক্ষ্য একটাই—জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
এক নজরে ব্রিটিশ সামরিক মিশন:
- প্রধান টার্গেট: হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগর।
- অস্ত্রশস্ত্র: টাইফুন ফাইটার জেট, এইচএমএস ড্রাগন জাহাজ, মাইন-হান্টার ড্রোন।
- বাজেট: ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলার।
- উদ্দেশ্য: ড্রোন হামলা ও মাইন বিস্ফোরণ থেকে বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষা।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬









