দিনাজপুরের কোরবানির হাটে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও বেচাকেনা এখনো ঢিলেঢালা

দিনাজপুর, ১৩ মে – পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দিনাজপুরের বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির গবাদিপশু আসতে শুরু করেছে। বাজারে পর্যাপ্ত পশু থাকলেও এখন পর্যন্ত বেচাকেনা পুরোদমে জমে ওঠেনি। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা কম। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে, দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় এবার মোট ৬৮টি পশুর হাট বসেছে।
এর মধ্যে কাহারোল হাট, চিরিরবন্দরের রানীরবন্দর, ঘোড়াঘাটের রানীগঞ্জ এবং পার্বতীপুরের আমবাড়ী হাট বড় বাজার হিসেবে পরিচিত। এবারের কোরবানির জন্য জেলায় ৬২ হাজার ৪০৮ জন খামারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫২৩টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। হাটে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। বড় গরুর ক্রেতা কম থাকায় অনেক খামারি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বিক্রেতারা জানান, ছোট ও মাঝারি গরু নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও বড় গরুর প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। আমবাড়ী হাটে আসা খামারি সাহেব আলী জানান, তিনি শাহীওয়াল জাতের চারটি ষাঁড় এনেছেন এবং প্রতিটির দাম আড়াই লাখ টাকা চাইছেন। কিন্তু ক্রেতারা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার বেশি দাম বলছেন না। অথচ গত বছর একই ধরনের গরু আরও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।
খামারি আব্দুর রহমান বলেন, পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় এবার প্রতিটি গরু পালনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। তবে ঢাকার বড় ব্যবসায়ীরা এখনো হাটে আসা শুরু না করায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতা আফসার আলী জানান, ঈদের কয়েকদিন বাকি থাকায় এখনই গরু কিনে বাড়িতে রাখা কষ্টকর, তাই অনেকেই শেষ মুহূর্তে কেনার অপেক্ষায় আছেন।
পশুর হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অসুস্থ পশু শনাক্তে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মেডিকেল টিম এবং জাল নোট শনাক্তে ব্যাংকের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানান, জেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। হাটে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এস এম/ ১৩ মে ২০২৬









