জাতীয়

ভোটের মাঠে ফিরছে ব্যালট! থাকছে না কোনো পোস্টার: প্রার্থীদের গুণতে হবে চড়া জামানত

ঢাকা, ১৩ মে – পাড়ায় পাড়ায় দড়িতে ঝোলানো সারি সারি সাদা-কালো পোস্টার, আর ডিজিটাল ভোটিং মেশিন বা ইভিএম—স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এই দৃশ্যগুলো হয়তো এখন অতীত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে একগুচ্ছ বড় সংস্কারের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত নির্বাচনের প্রচারণায় এখন থেকে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ রেখে আবারও ব্যালট পেপারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।

আজ বুধবার (১৩ মে) একটি বিশেষ সভার মাধ্যমে এই সংস্কারগুলোর খসড়া চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ জানিয়েছেন, নির্বাচনকে আরও ডিজিটাল, নিখুঁত এবং একই সাথে সহজবোধ্য করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন।

প্রধান পরিবর্তনগুলো একনজরে:

  • পোস্টার মুক্ত প্রচারণা: পরিবেশ রক্ষায় এবং নির্বাচনী সৌন্দর্য বজায় রাখতে চিরচেনা কাগজের পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ হচ্ছে।
  • ব্যালটে ফেরা: কারিগরি ও অন্যান্য দিক বিবেচনায় নিয়ে ইভিএমের পরিবর্তে প্রথাগত ব্যালট পেপারেই হবে ভোটদান।
  • জামানত বৃদ্ধি: যত্রতত্র প্রার্থী হওয়া ঠেকাতে এবং কেবল ‘সিরিয়াস’ বা প্রকৃত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামানতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হচ্ছে।
  • স্বতন্ত্র প্রার্থীদের স্বস্তি: স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারদের ন্যূনতম সমর্থনের স্বাক্ষর বা নথি জমা দেওয়ার যে জটিল বাধ্যবাধকতা ছিল, তা তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কেন বাড়ছে জামানতের টাকা?

ইসি কর্মকর্তাদের মতে, সামান্য কিছু টাকা জমা দিয়ে যে কেউ প্রার্থী হয়ে গেলে ব্যালট পেপারের আকার অনেক বড় হয়ে যায়। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হন এবং ভোট দিতে সময়ক্ষেপণ হয়। আব্দুর রহমানেল মাছুউদ বলেন, “আমরা চাই জেনুইন প্রার্থীরাই আসুক। ব্যালটের খরচ কমানো এবং মানুষের ভোটাধিকার সহজ করাই আমাদের লক্ষ্য।” বর্তমানে সিটি নির্বাচনে ভোটার ভেদে জামানত ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। উপজেলা নির্বাচনে এটি ইতিমধ্যে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। নতুন সংস্কারে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও এটি বাড়বে।

মাঠের প্রচারণায় পোস্টার না থাকলেও নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় আসছে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া। তৈরি হচ্ছে ‘ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)’ নামে একটি বিশেষ সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪,৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ, মামলা এবং সীমানা সংক্রান্ত সব তথ্য রিয়েল-টাইমে আপডেট করা হবে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী ১৫ মের মধ্যে সব তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগে একেক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একেক ধরণের আচরণবিধি থাকলেও এবার সবগুলো প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ‘একক ও সমন্বিত আচরণবিধিমালা’ তৈরির প্রস্তাব করেছে কমিশন। এটি কার্যকর হলে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা আরও শক্তিশালী এবং প্রয়োগযোগ্য হবে।

এনএন/ ১৩ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language