সচেতনতা

সুস্থ থাকতে ও ওজন নিয়ন্ত্রণে আদর্শ সকালের নাস্তার গুরুত্ব

সুস্থ থাকতে এবং দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকালের নাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে বর্তমানের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও সকালের খাবার এড়িয়ে যান। কেউ তাড়াহুড়া করে কেবল এক কাপ চা ও কফি খেয়েই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় না খেয়ে দেরি করে নাস্তা করেন।

পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধরনের অভ্যাসগুলোই সারাদিন শরীরে ক্লান্তি, ঝিমুনি এবং শক্তির ওঠানামার অন্যতম প্রধান কারণ।

দিনের শুরুতে শরীরকে এমন খাবার প্রদান করা প্রয়োজন যা ধীরে ধীরে শক্তি জোগাবে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করবে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, একটি আদর্শ সকালের নাস্তায় প্রধানত চারটি উপাদান থাকা অত্যন্ত জরুরি। সেগুলো হলো প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ফাইবার। এই চারটি উপাদানের সমন্বয় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। ফলে হঠাৎ শক্তি বৃদ্ধি বা হ্রাসের সমস্যা দেখা দেয় না এবং কাজে অধিক মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

প্রোটিন হজমের গতি কমিয়ে দীর্ঘ সময় শক্তি ধরে রাখে। এজন্য সকালের নাস্তায় ডিম, দুধ, দই, বাদাম বা মুরগির মাংসের মতো খাবার রাখা সমীচীন।

স্বাস্থ্যকর নাস্তার তালিকায় বাদামি পাউরুটি দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। এতে ডিম বা বিভিন্ন সবজি যোগ করা যায়। তবে বাড়তি ক্যালোরি এড়াতে অতিরিক্ত মেয়োনেজ পরিহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে জনপ্রিয় ওটস ফাইবার ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। এটি খিচুড়ি হিসেবে বা ফলের সাথে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।

ফলের ক্ষেত্রে শুধু ফল না খেয়ে তার সাথে দই বা বাদাম যোগ করলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে।

সকালের নাস্তায় কিছু প্রচলিত ভুল এড়িয়ে চলা আবশ্যক। কেবল চা বা কফি কিংবা প্যাকেটজাত বিস্কুট সাময়িক শক্তি দিলেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে না। এছাড়া ব্রেকফাস্ট বাদ দিলে পরবর্তীতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই নাস্তা করা উচিত। এটি মেটাবলিজম সক্রিয় করে সারাদিন শরীরকে সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language