উত্তর আমেরিকা

ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের স্বচ্ছতার দাবি

ওয়াশিংটন, ৭ মে – ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশক থেকেই ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী বলে ধারণা করা হলেও দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে কখনও এর অস্তিত্ব স্বীকার করেনি।

প্রায় ৩০ জন কংগ্রেস সদস্যের স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রশাসনের পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে অবহিত করা একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, ইসরায়েলের দিমোনা নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টারে কী মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা প্লুটোনিয়াম উৎপাদন চলছে।

পাশাপাশি তারা ইসরায়েলের কাছে থাকা ওয়ারহেড এবং উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। তারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তিতে স্বাক্ষর না করা ইসরায়েল কি ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বিশেষ পারমাণবিক নীতি বা অস্ত্র ব্যবহারের শর্ত সম্পর্কে জানিয়েছে কি না। ঐতিহাসিক নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ১৯৬৮ সালে সিআইএ তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনসনকে ইসরায়েলের পারমাণবিক সামর্থ্য সম্পর্কে অবহিত করেছিল।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৯০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম সাবমেরিন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ও ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এমন সমন্বিত চাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে, তবে ইসরায়েলের অপ্রকাশিত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।

এস এম/ ৭ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language