২০২৬ বিশ্বকাপের আকাশচুম্বী টিকিটের দাম নিয়ে সাফাই গাইলেন ফিফা সভাপতি

ওয়াশিংটন, ৬ মে – ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মুখে এর সপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানান, ফিফা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের সুবিধা নিতে বাধ্য হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী টিকিটের মূল দামের চেয়ে কয়েক হাজার ডলার বেশি মূল্যে তা পুনরায় বিক্রয় বা রিসেল করার অনুমতি রয়েছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বেভারলি হিলসে মিলকেন ইনস্টিটিউট গ্লোবাল কনফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইনফান্তিনো এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, টিকিটের এই উচ্চমূল্য আসলে বিশ্বকাপ দেখার ব্যাপক চাহিদাকেই ফুটিয়ে তোলে। তবে টিকিটের দাম নিয়ে ফিফা বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। দর্শকদের বৈশ্বিক সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ এই মূল্য কাঠামোকে জবরদস্তিমূলক এবং সমর্থকদের সঙ্গে বড় ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে অতিরিক্ত টিকিটের দামের বিষয়ে সংগঠনটি ইউরোপীয় কমিশনে ফিফার বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করে। সম্প্রতি দেখা গেছে যে ফিফার নিজস্ব মার্কেটপ্লেসেই নিউইয়র্কের ফাইনাল ম্যাচের চারটি টিকিটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল যার প্রতিটির দাম ছিল ২০ লাখ ডলারের বেশি। এই প্রসঙ্গে ইনফান্তিনো বলেন যে, কেউ যদি ২০ লাখ ডলারে টিকিট বিক্রির প্রস্তাব দেয় তার মানে এই নয় যে টিকিটের প্রকৃত দাম তত।
তিনি রসিকতা করে বলেন, কেউ যদি সত্যিই এত দামে টিকিট কেনে তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে একটি হট ডগ এবং পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করবেন যাতে তার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়। উল্লেখ্য যে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ সালের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেশি।
কাতারের ফাইনালের সর্বোচ্চ দামি টিকিট ছিল ১,৬০০ ডলার, সেখানে ২০২৬ সালের জন্য তা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১১,০০০ ডলার। ইনফান্তিনো দাবি করেন যে বিশ্বের অন্যতম উন্নত বিনোদন বাজারে বাজার দর অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা ন্যায়সঙ্গত। তিনি আরও জানান যে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য এখন পর্যন্ত ৫০ কোটির বেশি আবেদন জমা পড়েছে, যা অতীতের যেকোনো আসরের তুলনায় অনেক বেশি।
এস এম/ ৬ মে ২০২৬









