ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতেই হবে: জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস

বার্লিন, ১ মে – জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস ইরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে অবশ্যই সময়ক্ষেপণ বন্ধ করতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য তথা পুরো বিশ্বকে তারা আর জিম্মি করে রাখতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার জার্মানির লোয়ার স্যাক্সনির ম্যুনস্টারে একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় চ্যান্সেলর এসব কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল। ম্যার্ৎস ইরানের সামরিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ইসরায়েল কিংবা জার্মানির মিত্র দেশগুলোর ওপর আর কোনো ধরনের হামলা বরদাশত করা হবে না। হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের তাগিদ দিয়ে ম্যার্ৎস জানান, প্রাসঙ্গিক শর্তগুলো পূরণ করা হলে সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জার্মানি সামরিকভাবে অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় তিনি নিজের নাম খচিত সামরিক পোশাকে সজ্জিত ছিলেন। চ্যান্সেলর আরও উল্লেখ করেন যে, সাইপ্রাসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় কাউন্সিলের এক বৈঠকে তিনি ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাত্রা আরও বাড়ানোর পক্ষে তদবির করেছেন।
তার মতে, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে তা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের সৃষ্টি করবে। জার্মানি এই বিষয়ে তার মিত্রদের সঙ্গে, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে। ম্যার্ৎস বলেন, সম্মিলিত ট্রান্সআটলান্টিক স্বার্থেই তারা পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কাজের ন্যায্য বিভাজন বজায় রেখে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, এই অস্থিতিশীল সময়ে একটি শক্তিশালী ন্যাটো এবং নির্ভরযোগ্য ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারিত্বই তাদের মূল লক্ষ্য।
এর আগে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ইস্যুতে টানাপোড়েনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে অপমানিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন ম্যার্ৎস। তার সেই মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর ইঙ্গিত দিলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দেয়। এরই প্রেক্ষিতে ইরান ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে কড়া বার্তা দিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস।
এস এম/ ১ মে ২০২৬









