জাতীয়

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বসিলা হাটের আধিপত্য

ঢাকা, ৩০ এপ্রিল – রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তদন্তে জানা গেছে মোহাম্মদপুরের বসিলা পশুর হাটের ইজারা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় বিরোধ মীমাংসার কথা বলে টিটনকে ডেকে এনে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর টিটন বসিলা হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য শিডিউল সংগ্রহ করেছিলেন। ওই এলাকায় আগে থেকেই পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীদের একক আধিপত্য ছিল। হাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পিচ্চি হেলাল ছাড়াও তার সহযোগী কাইলা বাদল, শাহজাহান ও ভাঙ্গাড়ি রনির সঙ্গে টিটনের বিরোধ তৈরি হয়।

ঘটনার দিন সমঝোতার প্রলোভন দেখিয়ে টিটনকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। সেখানে আগে থেকেই মোটরসাইকেলে মাস্ক ও টুপি পরে ওত পেতে ছিল চারজন শুটার। কাইলা বাদলের সরাসরি নেতৃত্বে এই কিলিং মিশন পরিচালিত হয়। গুলিবর্ষণের পর খুনিরা যাতে নিরাপদে পালিয়ে যেতে পারে সেজন্য শাহজাহান নামের এক সহযোগী বিডিআর ৩ নম্বর গেটের কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত ছিল।

এই ঘটনায় নিহত টিটনের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৮ থেকে ৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহারে রিপন উল্লেখ করেন যে পিচ্চি হেলাল ও তার সহযোগীরা বসিলা হাটের শিডিউল নিয়ে টিটনকে হুমকি দিচ্ছিল এবং সমঝোতার নাম করে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনে বিদেশে পলাতক আসামিদের ধরতে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন তদন্তের স্বার্থে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

এনএন/ ৩০ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language