ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে ধুঁকছে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি

ব্যাংকক, ১৬ এপ্রিল – মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে আসছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা থাইল্যান্ডের পুঁজিবাজার ও বন্ড থেকে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চানভিরাকুলের নেতৃত্বে থাইল্যান্ডের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে আশা তৈরি হয়েছিল বর্তমান অনিশ্চয়তা তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। থাইল্যান্ড তার প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে ফলে দেশটির জ্বালানি নির্ভরতা প্রকট হয়ে উঠেছে। দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ ইতোমধ্যে নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৭০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুদ্ধের আগেই থাইল্যান্ডের অর্থনীতিতে মন্দা বা মূল্যপতনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের থাই শেয়ার কিনেছিলেন।
তবে যুদ্ধের প্রভাবে মার্চ মাসেই তারা ৮২৩ মিলিয়ন ডলারের শেয়ার এবং ৭০৫ মিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি করে দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি ও পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে যা থাইল্যান্ডের অর্থনীতির প্রধান দুই স্তম্ভ। জেপিমরগানের কৌশলবিদ খোই ভু জানিয়েছেন জ্বালানি সংকটের পুরো প্রভাব এখনো বাজারে দৃশ্যমান নয়। গ্রাসহপার অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ড্যানিয়েল ট্যান এবং অলস্প্রিং গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্টসের গ্যারি ট্যান মনে করেন থাইল্যান্ড বর্তমানে একটি নীতি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সুদের হার কমানো প্রয়োজন আবার অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তা বাড়ানোও জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ডের মুদ্রা বাতের মানও চাপের মুখে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী জ্বালানির দাম বাড়লে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থমন্ত্রী একনিতি নিতিথানিপ্রাসাত সতর্ক করে বলেছেন সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে বিকল্প উপায় খুব সীমিত। এপ্রিলের পরও এই অস্থিরতা বজায় থাকলে তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এস এম/ ১৬ এপ্রিল ২০২৬









