অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান হচ্ছেন সুসান কয়েল

ক্যানবেরা, ১৩ এপ্রিল – অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন একজন নারী কর্মকর্তা। তিন দশকের বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েলকে নতুন চিফ অব আর্মি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাস থেকে তার এই নিয়োগ কার্যকর হবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে বর্তমানে চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুসান কয়েল।

তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন জুলাই মাস থেকে অস্ট্রেলিয়ান সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি মন্তব্য করেন সুসানের এই অসামান্য অর্জন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্সে কর্মরত নারীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যারা ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনীতে পেশা গড়ার কথা ভাবছেন তাদের জন্যও এটি এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান তিনিই হবেন অস্ট্রেলিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর যেকোনো সার্ভিস শাখার নেতৃত্ব প্রদানকারী প্রথম নারী কর্মকর্তা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের হার প্রায় ২১ শতাংশ এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের পদগুলোতে এই হার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে সামরিক বাহিনীতে নারীদের সার্বিক অংশগ্রহণের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুসান কয়েলের এই ঐতিহাসিক নিয়োগ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন দেশটির সামরিক বাহিনী তাদের বিভিন্ন র‍্যাংকে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য বিগত সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীকে যৌন হয়রানি এবং লিঙ্গ বৈষম্যের মতো বেশ কিছু অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এস এম/ ১৩ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language