মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইতিবাচক ইঙ্গিত, তবে মূল বাধা ইসরায়েল

তেল আবিব, ১২ এপ্রিল – ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা না থাকলেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার শুরু হওয়াটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। খবরে বলা হয়েছে ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা কিছুটা কমাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালির মতো জটিল ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত থাকায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ডনের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয় ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্কের চরম টানাপোড়েন চলছে। দীর্ঘদিনের এই জটিল সংকট স্বল্প সময়ে সমাধান করা সম্ভব নয় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে সময়ের প্রয়োজন। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে এমন ধারণা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে। তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একটি প্রাথমিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে।

শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আলোচনা আপাতত বন্ধ রাখা এবং ইরানের জনগণের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত বলে মত দেওয়া হয়েছে। পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধানের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ক আলোচনায় বেশ অগ্রগতি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্মানজনক অবস্থান গ্রহণ করে তবে ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া আসতে পারে।

তবে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে তাদের শক্তিশালী লবি। এই প্রভাব কমানো না গেলে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা অত্যন্ত কঠিন হবে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন আলোচনা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান থামবে না।

এই জটিল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো তারা কি ইসরায়েলের প্রভাবিত পথে এগোবে নাকি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে ইসরায়েলের পথটি ওই অঞ্চলকে আরও একটি বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। তবে ইতোমধ্যে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা এগিয়ে নেওয়ার ভালো সুযোগ এখনো রয়ে গেছে।

এস এম/ ১২ এপ্রিল ২০২৬


Back to top button